ব্যাংকের সঠিক তথ্য প্রকাশে জোর অর্থনীতিবিদদের

বৈশ্বিক অর্থনীতির নেতিবাচক ধাক্কা সামাল দিতে অর্থনীতির প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করার পাশাপাশি প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রতি জোর দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যভিত্তিক গ্রন্থ ‘ব্যাংকিং অ্যালমানাক’-এর চতুর্থ প্রকাশনীর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এ পরামর্শ দেন বক্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও ব্যাংকিং অ্যালমানাক গ্রন্থের এডিটোরাল বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

ড. সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘পরিসংখ্যান যেভাবে আসে তা সবসময় গুণগত মানের হয় না। তবে তথ্য অবশ্যই থাকতে হবে। তথ্যের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার আলোকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এছাড়া সূর্যের আলোতে যেমন অনেক প্রতিষেধক রয়েছে, তেমনি তথ্য প্রকাশ করলে তাতে বিপদ কেটে যাবে বলে মনে করি। আর গোপন রাখলে তো আরও সমস্যা বাড়বে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অর্থনীতি নিয়ে যত কাজ হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি কথা হচ্ছে। ভিয়েতনামের মতো দেশ যা বলে তার ৯০ শতাংশের বেশি করে। আর আমরা টার্গেট নিয়ে কাজ করছি, কিন্তু তার বাস্তবায়ন সেভাবে নেই।

ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নীতিমালা তৈরির প্রক্রিয়াতে জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, বাজারে অনেক তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু তথ্যের দ্বিধা ও বিভ্রম রয়েছে।

অর্থনীতির সঠিক চিত্র উঠে আসছে না জানিয়ে তিনি বলেন, সব আলোচনার আগে প্রকৃত শব্দটি যোগ করা প্রয়োজন। ব্যাংকিং, প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্যের কথা যখন বলি তখন প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে এখন প্রকৃত শব্দ ব্যবহার জরুরি হয়ে পড়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির নেতিবাচক ধাক্কা দেশে লেগেছে। অর্থনীতি সংকটের মধ্যে পড়েছে। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি একটি কঠিন বিষয়। এটা ধরা কঠিন, নিয়ন্ত্রণেও রাখা সহজ নয়। কারণ আমাদের অনেক তথ্য স্টাডিনির্ভর নয়। কিন্তু দেশ হিসেবে বৈশ্বিক বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে টিকে থাকার চেষ্টা চলছে।