চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ছাত্রলীগের বিবদমান দুটি পক্ষ দুই দফা সংঘর্ষে জড়িয়েছে। দুই দিনের সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী প্রক্টরসহ উভয় পক্ষের আহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন। সংঘর্ষের পর ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত উভয় পক্ষে কোনো সমঝোতা বা শান্তি আলোচনা হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মারামারির পর ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি থমথমে। যেকোনো মুহূর্তে আবার তারা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়াতে পারে।
ছাত্রলীগের বিবদমান দুই পক্ষ বারবার সংঘর্ষে জড়ালেও এ নিয়ে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কোনো তদন্ত কমিটিও গঠন করেনি।
মারামারির ঘটনায় কোনো পক্ষ গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত পুলিশের কাছে অভিযোগ বা মামলা করেনি। তবে সমঝোতার লক্ষ্যে রাতে বৈঠকে বসতে দুই পক্ষের জ্যেষ্ঠ নেতারা রাজি হয়েছেন বলে জানা গেছে। ওই বৈঠকে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডিও উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপদল সিক্সটি নাইনের নেতা ইকবাল হোসেন টিপু।
৫ ও ৬ জানুয়ারি রাতে শাটল ট্রেনের আসনে বসাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির জেরে দুই দফায় সংঘর্ষে জড়ায় বগিভিত্তিক সংগঠন সিক্সটি নাইন ও ভিএক্স গ্রুপের অনুসারীরা। প্রথম দিন দুই পক্ষের তিনজন, দ্বিতীয় দিন আহত হন চবির সহকারী প্রক্টর শহিদুল ইসলামসহ ১০ জন।
মারামারির ঘটনা নিয়ে চবি প্রশাসন কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কি না জানতে চাইলে ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, ‘চবি প্রশাসন উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে হয়তো একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে পারে।’
বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত আছে।
সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়ার সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া দেননি তিনি।
প্রসঙ্গত, চবি শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতি দুই পক্ষে বিভক্ত। এক পক্ষ শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের এবং আরেক পক্ষ সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। আবার দুই পক্ষের মধ্যে ১১টি উপপক্ষ আছে। সংঘর্ষে জড়ানো সিক্সটি নাইন ও ভার্সিটি এক্সপ্রেস (ভিএক্স) আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয়। এর মধ্যে ভিএক্সের নেতৃত্বে রয়েছেন বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয়।