ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতপাড়া

ফেইসবুকে প্রতিবাদ জানিয়ে সোচ্চার আইনজীবীরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিচার বিভাগে অস্থিরতা চলছে। আদালতে আইনজীবী ও বিচার বিভাগের বিচারক, কমচারীদের মধ্যে নানা বিষয়ে বিরোধ নিয়ে এ অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। আইনজীবীদের অভিযোগ, সম্প্রতি মামলাকে কেন্দ্র করে বিচারকের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা, আদালতের কমচারীদের আদালতে তালা ঝোলানোয় এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তারা জেলা জজসহ দুই বিচারকের অপসারণ দাবি করেছেন। এ দাবিতে নানা কমসূচিও পালন করছেন।

আগামী বৃহস্পতিবার থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আদালত বর্জনের ডাক দিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন-১ আদালতের বিচারকের সঙ্গে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তানভীর ভূঞাসহ কয়েকজন আইনজীবীর অসৌজন্যমূলক আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় হাইকোর্টে তলব করা হয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তানভীর ভূঞা, সম্পাদক (প্রশাসন) আক্কাস আলী ও আইনজীবী জুবায়ের আহমেদকে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।

এ সব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইনজীবী সমিতির সদস্যরা সবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন আঙ্গিকে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। জেলার আইনজীবীরা তাদের ফেইসবুক প্রোফাইলে ‘উদীয়মান সূর্যর ছবি দিচ্ছেন। গতকাল শনিবার সকাল থেকেই জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট তানবীর ভূঞা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মফিজুর রহমান বাবুল সহ অনেক আইনজীবীর প্রোফাইলে এই ছবি দেখা গেছে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইনজীবী সমিতির সদস্য শহীদুল ইসলাম বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র কোর্ট ফি জালিয়াতি করে আসছে। প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, জাল কোর্ট ফির কারণে সরকার প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাল কোর্ট ফির মূলহোতা আদালতের নাজির মুমিনুল ইসলাম। আমরা তার বিচার দাবি করেছি। বিষয়টি নিয়ে বর্তমান আইনজীবী সমিতি গত ১০ মাস ধরে উচ্চপদের সব দপ্তরে জানিয়েছে। অবশেষে বিষয়টি জেলা জজকে জানানোর পর থেকেই মূলত পরিস্থিতি অবনতি শুরু হয়। কারণ জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুমিনুলকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। এরপর আদালত চত্বরে একটি রেইনশেড তৈরির সময় বাধা দিলে তা প্রকাশ প্রায়।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতি সভাপতি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমরা সঠিক আছি, কোনো ষড়যন্ত্রই আমাদের দমিয়ে রাখতে পারবে না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা জজ আদালতের নাজির (সদ্য বদলি) মুমিনুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আইনজীবীদের করা অভিযোগ মিথ্যা। বিভিন্ন সময় তাদের কোনো সমস্যা হলেই এ সব মিথ্যা অভিযোগ করেন। অথচ তাদের অভিযোগগুলোর সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষ আমার সম্পর্কে ভালোই জানে।