কোটিপতি হিরো আলম

বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলম। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনেও বগুড়া-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন তিনি। ২০১৮ সালে যার সম্পদ বলতে তেমন কিছু ছিল না, তিনিই চার বছরের ব্যবধানে এখন কোটিপতি।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র ও হলফনামার সঙ্গে নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহে অর্থপ্রাপ্তির সম্ভাব্য উৎস বিবরণী দাখিল করে হিরো আলম জানিয়েছিলেন, তার ব্যাংক হিসাবে এক হাজার টাকা, ২১ শতাংশ কৃষিজমি, ৮৭ হাজার টাকা মূল্যের একটি পুরনো মোটরসাইকেল, আড়াই লাখ টাকার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিকস পণ্য এবং স্ত্রীর ১ ভরি স্বর্ণালংকার ছিল। আয় বলতে ছিল কৃষি থেক থেকে আসা ৬ হাজার টাকা এবং অভিনয় থেকে আসা ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা। নিজের বাড়ি ও গাড়ি ছিল না।

২০২২-এ এসে হিরো আলম এখন কোটিপতি। চড়ছেন কয়েক লাখ টাকা মূল্যের ব্যক্তিগত গাড়িতে। ৯ শতক জায়গা কিনে বাড়ি বানিয়েছেন। ব্যাংকে জমা আছে ৩০ হাজার টাকা। কিনেছেন কৃষিজমিও। এখন তার কৃষিজমির পরিমাণ ৫০ শতাংশ। স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বেড়ে হয়েছে ১০ ভরি। এ ছাড়াও আছে ৫৫ লাখ টাকার পারিবারিক সঞ্চয়পত্র।

সম্পদ বিবরণীর হলফনামায় হিরো আলম এ তথ্য উল্লেখ করে বলেন, আমি স্বশিক্ষিত এবং পেশা ব্যবসা।

আয় সম্পর্কে হিরো আলম বলেন, সবাই জানে আমার কোনো কালোটাকা নেই। শো করে উপার্জন করি। চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও অভিনয় করি। নাটক, চলচ্চিত্র ও মিউজিক ভিডিও নির্মাণের ব্যবসা করি। ইউটিউব থেকে আয় করি। এসব আয় থেকেই সৎভাবে জীবন যাপন করছি। একটু একটু করে সঞ্চয় জমিয়ে কিছু করার চেষ্টা করছি। কোনো অসৎ রোজগারের অর্থ আমার নেই।

উল্লেখ্য, গত রবিবার (০৮ জানুয়ারি) বগুড়া-৪ ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে ন্যূনতম ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরসহ সমর্থনসূচক তালিকায় গরমিল থাকায় হিরো আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম।