এখন থেকে সরকারি খাতের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) পদে পদোন্নতি ও পদায়ন দেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গত সপ্তাহে এমন নির্দেশনা জারির পর সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এমনকি গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে এক বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীরা।
বৈঠকে আসন্ন রমজানে ৮ পণ্য আমদানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে আবারও তাগাদা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ সময় ভোজ্য তেল, ছোলা, ডাল, মটর, পেঁয়াজ, মসলা, চিনি এবং খেজুরের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সরকারি ব্যাংকগুলোতে পর্যবেক্ষক ও সমন্বয়ক নিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র ও পরিচালক মো. সারওয়ার হোসেন বলেন, ‘সামনের মার্চে রমজান শুরু হবে। এ সময় ভোজ্য তেল, ছোলা, ডাল, মটর, পেঁয়াজ, মসলা, চিনি এবং খেজুরের চাহিদায় দামও বেড়ে যায়। এবার দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে আমদানিতে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য এসব পণ্য আমদানিতে ছাড় এবং ডলার সরবরাহের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যাতে কোনোভাবে পণ্য আমদানিতে বিঘœ না হয়, সেজন্য সরকারি ব্যাংকের এমডিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।’
বৈঠকে সরকারি ব্যাংকের পদোন্নতি নিয়ে অসন্তোষ এবং সমন্বয়ক ও পর্যবেক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে মো. সারওয়ার হোসেনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে, গত সপ্তাহে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকারি খাতের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও জিএম পদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন নীতিমালা জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পদায়নও করতে পারবে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। আগে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই জিএম পদে পদোন্নতি দিয়ে আসছিল। সে ক্ষেত্রে শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যাংকেই পদায়নের সুযোগ ছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীরা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) পদে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনা বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ব্যাংকের জিএম পদে পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর থাকা উচিত। সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে নিযুক্ত সমন্বয়কদের কার্যপরিধি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগের চেয়ে নিবিড়ভাবে প্রতিটি ঋণ ও তারল্য ব্যবস্থাপনার তত্ত্বাবধান আরও বৃদ্ধি করতে সমন্বয়কদের বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গভর্নর ও সরকারি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের মধ্যে কড়া বাক্যবিনিময় হয়েছে।
জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৮ সালে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও নিয়োগ নিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেখানে বলা হয়েছিল, এমডি, ডিএমডি ও জিএম পদে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ওপর ন্যস্ত থাকবে। এখন এসব কর্মকর্তা নিয়োগের দায়িত্ব পুরোপুরি মন্ত্রণালয় নিয়ে গেছে। অথচ সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংক লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হওয়ার পর নিজেরাই জিএম পদে পদোন্নতি দিয়ে আসছিল। ২০১৯ সালেও একবার নীতিমালা করে সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জিএমদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নের দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসে।