পাবনার ঈশ্বরদীতে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই নেতার বাড়ি ভাঙচুরের সাত দিন পেরোলেও পুলিশ মামলা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্ত দুই ছাত্রলীগ নেতার দাবি, পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্যের ছেলে তৌহিদুজ্জামান দোলন বিশ্বাসের নাম অভিযোগপত্রে থাকায় এই মামলা নিতে গড়িমসি করছে পুলিশ।
ঈশ্বরদী পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান বলেন, ‘থানায় দেওয়া আমার অভিযোগে কিছু নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তারা নাম বাদ দিয়ে অজ্ঞাত হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ থানায় দেওয়ার পরামর্শ দেন।’ তিনি বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় ন্যায়বিচার পাচ্ছি না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আকার-ইঙ্গিতে মামলা করে কোনো লাভ হবে না বলে বুঝিয়ে দিচ্ছেন।’
মুলাডুলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বাপ্পি মালিথা বলেন, ‘ঘটনার সাত দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক। গেল বৃহস্পতিবার সকালে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে এজাহার জমা দিই। সে অনুযায়ী এখনো পুলিশের কোনো পদক্ষেপ লক্ষ করা যায়নি।’
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার মুঠোফোনে জানান, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান ও মুলাডুলি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বাপ্পি মালিথা থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ আমলে নিয়েই তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই সেটি মামলায় রূপ পাবে এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এমপিপুত্র তৌহিদুজ্জামান দোলন বিশ্বাসের নাম থাকায় অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হতে বাধা কি না, এমন প্রশ্নে ওসি অরবিন্দ বলেন, অভিযুক্তের পরিচয় বড় বিষয় নয়। ঘটনার সত্যতা
নিরূপণ জরুরি। আসামি যে কেউ হতে পারে এবং তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
গত ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঈশ্বরদীতে নানা আয়োজন করা হয়। আনন্দ শোভাযাত্রা নিয়ে শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে সমবেত হয় দলীর নেতাকর্মীরা। ঠিক ওই সময় পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান ও মুলাডুলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বাপ্পি মালিথার বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়। ছাত্রলীগ নেতা মারুফ ও বাপ্পি দাবি করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছেলে তৌহিদুজ্জামান দোলন বিশ্বাস, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ছেলে মিজান মালিথাসহ আরও বেশ কয়েকজন তাদের বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।
এ বিষয়ে এমপিপুত্র তৌহিদুজ্জামান দোলন বিশ্বাস বলেন, ‘আমি তো ঘটনার সময় বাড়িতেই ছিলাম। অভিযোগ দিলেই সব দোষ তার হয়ে যায় না। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক আমি জড়িত কি না। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ছেলে কনক শরীফের নেতৃত্বে মিছিল বের হলে সেখানে ধাক্কাধাক্কি ও বিশৃঙ্খলা হয়। মিছিলের পর ফান্টু নামে এক যুবলীগ কর্মী ছুরিকাহতও হয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে কিছু নেতাকর্মী ওই দুই ছাত্রলীগ নেতার বাড়ি ভাঙচুর করেছে বলে শুনেছি।’