ছাড়ের ছড়াছড়ি, ক্রেতাদের ভিড়

রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহরে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ২৭তম আসর জমতে শুরু করেছে। মেলায় দর্শনার্থী বাড়ায় মেলা ফিরে পেয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ রূপ। প্রতি বছরই বাণিজ্যমেলায় লাখো মানুষের সমাগম হয়। যে কারণে দেশের নামিদামি পণ্যের প্রতিষ্ঠানগুলো এই মেলায় অংশগ্রহণ করে নিজেদের পণ্য সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত করতে। এসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের পণ্য পরিচিত করাতে তাদের পণ্য বিক্রিতে ক্রেতাদের আকর্ষণীয় ছাড় দিয়ে যাচ্ছে। আর ছাড় পেয়ে গতকাল বুধবার ক্রেতাদেরও দোকানগুলোতে পণ্য কিনতে ভিড় জমাতে দেখা যায়।

এবারের আসরে প্রথমদিকে বাণিজ্যমেলা অনেকটা অপ্রস্তুত অবস্থায় থাকলেও এক সপ্তাহের মধ্যে মেলা তার চিরচেনা রূপে ফিরে আসে। মেলায় এবার ৩৩১টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রাণ আরএফএল গ্রুপ, বেঙ্গল গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, কোকা-কোলা, নাভানা ফার্নিচার, আকতার ফার্নিচার, পারটেক্স ফার্নিচার, গাজী গ্রুপ ও ইগলুসহ দেশের নামিদামি প্রতিষ্ঠানগুলো অংশগ্রহণ করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে নিজেদের প্যাভিলিয়ন বিভিন্ন রঙের আলোকসজ্জাতে সাজিয়েছে। মেলায় প্রাণ আরএফএল গ্রুপের তিনতলা একটি প্যাভিলিয়ন রয়েছে। যেখানে প্লাস্টিক ও গৃহস্থালির পণ্য, ফার্নিচার, শিশুদের জন্য সাইকেল, জুতা ও খেলনাসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য রয়েছে। আরএফএল গ্রুপের পণ্যগুলোতে সর্বনিম্ন ১০ ভাগ ও সর্বোচ্চ ৩০ ভাগ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। মেলায় দোতলাবিশিষ্ট বেঙ্গল প্যাভিলিয়নে মেলামাইন, প্লাস্টিক, গ্যাস স্টোভ ও গৃহস্থালির পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। বেঙ্গল প্যাভিলিয়নে সর্বনিম্ন ১০ ভাগ ও সর্বোচ্চ ৫০ ভাগ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া এসব পণ্যের পাশাপাশি খাবার পণ্যগুলোতে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। মেঘনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ফ্রেশের বিভিন্ন বিস্কুট, কেক, ক্ষীর ও মসলা মেলায় আসা দর্শনার্থীদের বিনামূল্যে খাইয়ে স্বাদ ও মানের বিষয়ে তাদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। তারা ছাড় দিয়ে এসব পণ্যের কম্বো প্যাকেজ বিক্রি করছে দর্শনার্থীদের কাছে।

এদিকে শীত কিছুটা কমায় মেলায় আসা দর্শনার্থীরা ভিড় জমাচ্ছে আইসক্রিমের দোকানগুলোতে। ইগলুর স্টলে আইসক্রিম কিনতে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। তবে মেলায় সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে গৃহস্থালি পণ্য ও প্রসাধনীর দোকানগুলোতে।

মেলায় আসা দর্শনার্থীরা বলেন, পূর্বাচলে আয়োজিত মেলা ঢাকার আগাঁরগাওয়ের বাণিজ্যমেলার মতোই জমে উঠছে। মেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ছাড় দিচ্ছে, তাই তারা ছাড় পেয়ে বাড়ির জন্য কেনাকাটা করে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে মেলায় আসতে যানজটে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়ার কথা জানান দর্শনার্থীরা।

বেঙ্গল প্যাভিলিয়নের ম্যানেজার শাওন বলেন, ‘মেলার যতদিন যাচ্ছে ততই দর্শনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরাও দর্শনার্থীদের জন্য মেলায় বেঙ্গলের পণ্যে বিভিন্ন প্রকার ছাড় দিচ্ছি। ছাড় পেয়ে দর্শনার্থীরা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের পণ্য কিনে ক্রেতারাও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।’

প্রাণ আরএফএল প্যাভিলিয়নের ব্যবস্থাপক আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রতি বছরই বাণিজ্যমেলায় অংশগ্রহণ করি। মেলায় আমাদের কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ বিক্রির টার্গেট থাকে না। আমরা বাণিজ্যমেলায় অংশগ্রহণ করি দর্শনার্থীদের আমাদের পণ্য সম্পর্কে পরিচিত করাতে। মেলায় আমাদের প্যাভিলিয়নে প্লাস্টিক পণ্য, গৃহস্থালির পণ্য, ফার্নিচার, শিশুদের জন্য সাইকেল, জুতা ও খেলনাসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য রাখা হয়েছে। এগুলোতে সর্বনিম্ন ১০ ভাগ ও সর্বোচ্চ ৩০ ভাগ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। মেলায় দর্শনার্থী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের প্যাভিলিয়নের ক্রেতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

মেঘনা গ্রুপের প্যাভিলিয়ন ইনচার্জ সুজন বলেন, ‘আমাদের প্যাভিলিয়নে মেঘনা গ্রুপে ফ্রেশের যত পণ্য রয়েছে তার মধ্যে বেশিরভাগই রাখা হয়েছে। আমাদের প্যাভিলিয়নে মেলায় আসা দর্শনার্থীদের ফ্রেশ ব্র্যান্ডের কেক, বিস্কুট, রুটিসহ বিভিন্ন পণ্য ফ্রিতে খাওয়ানো হচ্ছে। পণ্য খাওয়ার পর আমরা দর্শনার্থীদের কাছ থেকে এর মান সম্পর্কে মতামত নিচ্ছি। আমাদের পণ্য নিয়ে দর্শনার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।’

ইগলু আইসক্রিমের প্যাভিলিয়ন ইনচার্জ আলামিন বলেন, ‘শৈতপ্রবাহ কেটে গিয়ে কিছুটা গরম আবহাওয়ায় আইসক্রিমের বিক্রি বেড়েছে। আমরা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে আইসক্রিমের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের অফার দিচ্ছি। এ ছাড়া আমরা দর্শনার্থীদের জন্য তৈরি করেছি ফটোজোন। যেখানে দর্শনার্থীরা তাদের সুন্দর সুন্দর ছবি তুলে পারবেন।’

বিক্রেতাদের মতো সন্তুষ্ট ক্রেতারাও। রূপসী থেকে আসা দর্শনার্থী শুভ রায়হান বলেন, ‘বাণিজ্যমেলায় এসে দেখি স্টলগুলোতে চলছে ছাড়ের ছড়াছড়ি। তাই পরিবারের জন্য কেনাকাটা করে নিয়ে যাচ্ছি। বাণিজ্যমেলার এবারের আসর গত আসরের চেয়ে অনেক সাজানো-গোছানো হয়েছে।’

রাজধানীর চিটাগং রোড থেকে রোজিনা আক্তার স্বামীকে নিয়ে বাণিজ্যমেলায় ঘুরতে এসেছিলেন। তাদের নতুন বিয়ে হয়েছে। ছাড় পেয়ে তারা নতুন সংসার গোছাতে ঘরের বিভিন্ন গৃহস্থালির পণ্য কেনেন মেলা থেকে।

মেলার মাঠে এ প্রতিবেদকের কথা হয় রফিক নামে এক প্রসাধনী বিক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মেলায় দর্শনার্থী বাড়ায় আমরা অনেক খুশি। আমাদের বিক্রিও বেড়েছে অনেক। দর্শনার্থী বাড়ার কারণে আমরাও বিভিন্ন পণ্যে ছাড় দিচ্ছি। এ কারণে ক্রেতারাও মেলায় এসে ভিড় জমাচ্ছেন।’

মেলার সার্বিক বিষয় জানতে চাইলে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব ও বাণিজ্যমেলার পরিচালক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘মেলায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন। দিন যত যাচ্ছে মেলা ততই জমে উঠছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি বাণিজ্যমেলাকে সফলভাবে সম্পন্ন করতে।’