সংসদ বিলুপ্ত, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন ও খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ১০ দফা দাবিতে গতকাল বুধবার চট্টগ্রামে বিভাগীয় গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। নগরীর সিআরবি সাত রাস্তার মোড়ে সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা যোগ দেন।
কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে যে বার্তা আমরা দিই সে বার্তা সারা দেশে চলে যায় এবং মানুষ উজ্জীবিত হয়। সে বার্তা ফ্যাসিস্টদের পতনের বার্তা। পলোগ্রাউন্ডের পরে বাকি যে ৯টি সমাবেশ হয়েছে তাতে বিপুল জনসংখ্যার মাধমে আমরা তা প্রমাণ করতে পেরেছি। সরকার আজ এত বেশি ভীত হয়ে গিয়েছে যে তারা আমাদের ভয় দেখাতে চাচ্ছে। মানুষ যখন ভীত হয়ে আরেকজনকে ভয় দেখাতে চায় তার অবস্থাটা সহজে বুঝা যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীরা সে ভয়কে আজ জয় করে ফেলেছে। নেতাকর্মীরা প্রমাণ করেছে সেই শোভাযাত্রা, মিছিলে যত বাধা আসুক তারা পিছপা হয় না। ইতিমধ্যে আমাদের ১৩ জন সহযোদ্ধা শহীদ হয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ ঘরবন্দি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ অনেক নেতাকে জেলে দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনে কি ভাটা পড়েছে?’
আমীর খসরু বলেন, ‘লাখো জনতার এই অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে অবৈধ, দখলদার ও ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে বিদায়ের বার্তা দিয়েছে। পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে বিদায় হও, বাংলাদেশের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দাও, ভোটাধিকার ফিরিয়ে দাও, আইনের শাসন ফিরিয়ে দাও, বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে দাও, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দাও। তিনি বলেন, জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার বাংলাদেশের মানুষ দেখতে চায়। এই অবৈধ সরকারের পতনের বার্তা চট্টগ্রাম থেকে পরিষ্কারভাবে দেওয়া হয়েছে।’
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের পরিচালনায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় দলনেতা ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাজাহান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জয়নাল আবেদীন ফারুক, অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন (ভিপি জয়নাল), গোলাম আকবর খোন্দকার, এস এম ফজলুল হক, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান।