ইজতেমা শুরু কাল, দুদিন আগেই ময়দান পরিপূর্ণ

মাথায় ও হাতে বিছানাপত্র, কাপড়চোপড়, রান্নার জন্য চুলা, লাকড়ি, গ্যাসের সিলিন্ডার নিয়ে সারিবদ্ধভাবে দলে দলে মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ করছেন। আর তাদের আল্লাহু আকবর ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠছে টঙ্গীর তুরাগ তীর। এমন দৃশ্য গতকাল বুধবারের।

১৬০ একর আয়তনের ইজতেমা ময়দানে বাঁশের খুঁটির ওপর পাটের চট দিয়ে টানানো হয়েছে বিশাল প্যান্ডেল। বিদেশি মেহমানদের জন্য টিনের ছাউনি দিয়ে করা হয়েছে আবাসস্থল। আগামীকাল শুক্রবার শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। রবিবার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এ পর্ব শেষ হবে।

ইজতেমার আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গতকাল বিকেল পর্যন্ত ইজতেমা ময়দানে ২৫টি দেশের প্রায় দেড় হাজার বিদেশি মেহমান উপস্থিত হয়েছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বিশাল চটের প্যান্ডেলের ভেতরে নিজ নিজ জেলার খিত্তায় অবস্থান নিচ্ছেন মুসল্লিরা। এবার পুরো ইজতেমা ময়দানকে জেলাওয়ারি ৯১টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। আগামী দুদিনে আরও বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ইজতেমায় যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার বাদ ফজর থেকে আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ধারাবাহিকভাবে চলবে তিন দিনের ইজতেমার কার্যক্রম।

নেত্রকোনা থেকে আসা মুসল্লি আবদুস সালাম জানান, তিন চিল্লা শেষ করে মঙ্গলবার ইজতেমা ময়দানে চলে এসেছেন তিনি। এখানে ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের জন্য কিছু কাজকর্ম করছেন।

বরিশাল থেকে আসা মুসল্লি ইমান আলী জানান, সারা বছর দেশ-বিদেশ ঘুরে দ্বীনি দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয় দ্বীনি মেহনতের মাধ্যমে। ইজতেমায় এসে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোচনা শুনে নিজের ইমানকে আরও মজবুত করার চেষ্টা করেন।

ইজতেমা ময়দান পরিদর্শনে আইজিপি : বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন গতকাল ইজতেমা ময়দান পরিদর্শন করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব ইউনিটের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মুসল্লিদের নিরাপত্তা দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইজতেমায় আসা সাধারণ মানুষের ইজতেমা ময়দানে প্রবেশের সুবিধার্থে আমরা ম্যাপ তৈরি করে দিয়েছি। বিভিন্ন পয়েন্টেও আমরা তাদের জন্য বিভিন্ন প্রকারের নির্দেশনা টানিয়ে দিয়েছি। এ ছাড়াও বিভিন্ন পরিকল্পনা করে কোন বিভাগের গাড়ি কোথায় পার্কিং করা থাকবে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা, কোন রাস্তা কখন খোলা বা কখন বন্ধ থাকবে সে নির্দেশনা দিয়েছি। পকেটমারসহ নানা অপরাধ কার্যকলাপ রুখতে আমাদের টহল দল কাজ করবে। আমরা ওয়াচ টাওয়ার ও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করব। সাদা পোশাক ও পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, গাজীপুর মহানগর পুুলিশ ১৪টি নিয়ন্ত্রণকক্ষ তৈরি করেছে। র‌্যাবের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থাকবে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) তার এলাকায় নিয়ন্ত্রণকক্ষ খুলবে। পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), নৌপুলিশ ও পর্যবেক্ষক দল থাকবে। র‌্যাবের হেলিকপ্টার টহল থাকবে। ডগ স্কোয়াড টিম, মোবাইল প্যাট্রল টিম ও বম্ব ডিসপোজাল টিম থাকবে।

আইজিপি বলেন, ইজতেমা স্থলে যে ৯১টি খিত্তায় বিভক্ত, খিত্তাভিক্তিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সরকারের অন্যান্য বিভাগও সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ইতিমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আসতে শুরু করেছেন। আগামীকাল থেকে পুরোপুরি কাজ শুরু করবেন তারা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজিপি (অপারেশন) আতিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজিপি ও ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধান হাবিবুর রহমান, গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার পর মাঝে চার দিন বিরতি দিয়ে ২০ জানুয়ারি দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের অনুসারী (ওয়াসিফুল ইসলামপন্থি) মুসল্লিরা বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেবেন। ২২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে এবারের বিশ্ব ইজতেমার সমাপ্তি ঘটবে। ২০২০ সালে ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর করোনা মহামারীর কারণে গত দুই বছর ২০২১ ও ’২২ সালে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়নি।