ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালত

জট খোলার সম্ভাবনায় নতুন বাধা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও দায়রা জজ শারমিন নিগার, নারী ও শিশু নিযার্তন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মোহাম্মদ ফারুক এবং নাজির মোমিনুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে আইনজীবীদের আদালত বর্জন কর্মসূচি আরও তিনদিন বেড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইনজীবী সমিতির কর্মবিরতির ফলে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আইনজীবী সমিতির সভায় নতুন এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সে অনুযায়ী আগামী ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। বিষয়টির সুরাহা হলে তবেই তারা কাজে যোগ দেবেন। আইনজীবীরা তাদের দাবিতে অটল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. তানবীর ভূঞা বলেন, বৃহস্পতিবারের আইনজীবী সমিতির সভায় রবিবার থেকে নতুন করে তিনদিনের কর্মবিরতি কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।

ব্র্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে অচলাবস্থা বিরাজ করছে টানা ১২দিন ধরে, যা কর্মদিবস হিসেবে ১০ দিন। দুর্ভোগে রয়েছেন বিচারপ্রার্থীরা। ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের। তবে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আদালতে নিয়মিত আসছেন। আইনজীবীদের বেশিরভাগ আদালতে এলেও কর্মবিরতি থাকায় তারা শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন না। অচলাবস্থার কারণে আদালতের সঙ্গে যুক্ত কর্মজীবী মানুষদের দুর্ভোগও বাড়ছে। আয় কমে যাওয়ায় জীবন-জীবিকা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন তারা।  

এদিকে বিচারকের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও বিচারকের নামে কুরুচিপূর্ণ সেøাগানসহ বিচারকাজে বিঘœ ঘটানোর অভিযোগে দু’দফায় ২৪ আইনজীবীকে উচ্চ আদালতে তলব করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অমান্য করে একজন আইনজীবী মামলা দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। 

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক এমপি’র সঙ্গে মঙ্গলবার রাতে আইনজীবীদের সাক্ষাতের বিষয়টি সমস্যা সমাধানে আশা জাগিয়েছে। আইনমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ‘জট’ খোলার সম্ভাবনা দেখছেন তারা। সিদ্ধান্ত এলে তারা দ্রুত কাজে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন। অথচ এর মধ্যেই দেওয়া হলো আইনজীবীদের নতুন কর্মসূচি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজুর রহমান বাবুল বলেন, মঙ্গলবার রাতে আমরা আইনমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি আমাদের আশ^স্ত করেছেন। আশা করি উনি সমাধান করে দিলে আমরা দ্রুত কাজে যোগ দিতে পারব। তিনি বলেন, দুই বিচারকের প্রত্যাহার এবং নাজির মোমিনুলের প্রত্যাহার দাবি করে আমরা সংশ্লিষ্টদের কাছে লিখিত দিয়েছি। নতুন কর্মসূচি দেওয়া হলেও এর মধ্যে সমস্যা সমাধান হলে আইনজীবীরা কাজে যোগ দেবেন। 

আইনজীবীদের সঙ্গে বিচারকের অশোভন আচরণের অভিযোগ এনে ২৬ ডিসেম্বর সভা করে ১ জানুয়ারি থেকে সংশ্লিষ্ট আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় জেলা আইনজীবী সমিতি। তারা দুজন বিচারক ও একজন নাজিরের প্রত্যাহার দাবি করেন। অন্যদিকে বিচারকের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে ৩ জানুয়ারি কর্মবিরতি পালন করেন আদালতের কর্মচারীরা।

এজলাসে ঢুকে বিচারকের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল-জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ ৬ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ তিন আইনজীবীকে আগামী ১৭ জানুয়ারি আদালতে হাজির হয়ে ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন। অপরদিকে বিচারকের নামে কুরুচিপূর্ণ সেøাগান দেওয়ার অভিযোগে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ ২১ জনকে ২৩ জানুয়ারি আদালতে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক-আল-আজিজের বেঞ্চ।