অপহরণ করে ধর্ষণের পর খুন করে নদীতে ফেলে দেওয়ার সাত দিন পর পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার রূপারচর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ভাসমান অবস্থায় শিশু লামিয়ার (১২) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় গভীর সাগর থেকে লাশটি তীরে আনা হয়।
এ সময়ে পরিবারের শনাক্তের জন্য উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নে অবস্থিত লামিয়ার নিজ গ্রামে তার লাশটি নেওয়া হলে পরিবার-স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। ভিড় জমায় স্থানীয় শত শত মানুষ। তাদের দাবি, ফাঁসির রায় কার্যকর করে অপরাধীকে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।
পরিবারের লোকজন লামিয়ার লাশ শনাক্ত করার পর আইনি প্রক্রিয়া ও সুরতহাল শেষে শুক্রবারই মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হবে বলে জানান রাঙ্গাবালী থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘রূপারচর সংলগ্ন শিবচর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের গভীর সাগর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে নদীতে খুনের পর লাশটি ফেলে দেওয়া হয়েছিল; সেখানে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অভিযান চালিয়েছিল। কিন্তু নদী থেকে লাশ গভীর সাগরে চলে যাওয়ায় অভিযান চালিয়েও খুঁজে পাওয়া যায়নি।’
লাশ উদ্ধার অভিযানে থাকা চরমোন্তাজ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সজল কান্তি দাস বলেন, লাশ উদ্ধারকালে শিশুর গায়ে থাকা জামা এবং তাকে যে চাদর দিয়ে পেঁচিয়ে ফেলা হয়েছিল; সেগুলো পাওয়া যায়। তবে শরীরের বিভিন্ন অংশ পচেগলে বিকৃত হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি। কীভাবে লাশের সন্ধান পেলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জেলেরা লাশটি সাগরে ভাসতে দেখে খবর দেয়। আমরা এসে স্পিডবোট ও ট্রলার নিয়ে খোঁজাখুঁজির পর লাশের সন্ধান পাই এবং উদ্ধার করি।’
গত ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নে নিজ বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরের সাগরপাড় বাজার থেকে রসদ (নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য) কিনে ফেরার পথে নিখোঁজ হয় শিশু লামিয়া। পরদিন দুপুরে চরআ-া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকার একটি পুকুরপাড় থেকে তার পায়ের একটি জুতা আর বাজার থেকে কেনা রসদ এবং খালসংলগ্ন বিলের মাঝে পাওয়া যায় ওড়না।
নিখোঁজের এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওইদিন রাতে আল-আমিন নামে এক অটোরিকশা চালককে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে স্থানীয়রা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটিকে অপহরণ করে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করার পর বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে ফেলে দেওয়ার বিষয়টি পুলিশের কাছে স্বীকার করে ওই অটোচালক।
এ ঘটনায় ৮ জানুয়ারি রাতে রাঙ্গাবালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়। হত্যাকান্ডের শিকার শিশুর বাবা বাদী হয়ে অটোচালক আল-আমিনকে প্রধান এবং একমাত্র আসামি করে এ মামলা করেন। এ মামলায় ৯ জানুয়ারি আল-আমিনকে গলাচিপা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে স্বীকারোক্তিমূলক ঘটনার বিস্তারিত জবানবন্দি দেওয়ার পর বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।