ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে এক নারীকে প্রাইভেট কার দিয়ে ছেঁচড়ে মারা ঢাবির সাবেক শিক্ষক আজহার জাফর শাহ (৫৬) মারা গেছেন। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে গত বছরের ২ ডিসেম্বর বেলা ৩টার দিকে ঢাবির চারুকলা অনুষদের সামনে আজহার জাফর শাহর প্রাইভেট কারের ধাক্কায় সামনে থাকা মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান রুবিনা আক্তার নামে এক নারী। তিনি প্রাইভেট কারের বাম্পারে আটকে যান। তখন গাড়ি না থামিয়ে তাকে ওই অবস্থায় রেখেই দ্রুতগতিতে চালিয়ে যান চালক জাফর শাহ। পরে তাকে ধাওয়া করে নীলক্ষেত মোড়ের কাছে ধরে পিটুনি দেয় বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। এরপর ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রুবিনা।
কেন্দ্রীয় কারাগারের রক্ষী মো. আল আমিন জানান, কারাগারে হাজতি হিসেবে বন্দি ছিলেন আজহার জাফর শাহ (হাজতি নম্বর-১১৭/২৩)। সেখানে গতকাল অসুস্থ হয়ে পড়লে কারা চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আজহার জাফর শাহকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তার বাবার নাম মৃত মঈনউদ্দিন জাহাঙ্গীর শাহ।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া জানান, বেলা ৩টা ৩৩ মিনিটে জাফর শাহকে কারাগার থেকে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়।
আজহার জাফর শাহ ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক। ক্লাসসহ একাডেমিক কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
রুবিনা আক্তারকে চাপা দেওয়ার দিন তার বোনের স্বামী নুরুল আমিন জানান, তাদের বাসা হাজারীবাগের সেকশন এলাকায়। তেজগাঁও থেকে রুবিনাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে সেকশনের বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে চারুকলা অনুষদের সামনের রাস্তায় আজহার জাফর শাহর প্রাইভেট কারটি পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। তখন রুবিনা পড়ে গেলে প্রাইভেট কারটি তার ওপর উঠিয়ে দেয়। এতে গাড়ির বাম্পারের সঙ্গে আটকে যান রুবিনা। তখন তাকে ছেঁচড়ে নীলক্ষেত পর্যন্ত নিয়ে যান চালক জাফর শাহ। এরই মধ্যে লোকজন তার পিছু নেয়। ধাওয়া করে নীলক্ষেত এলাকায় গিয়ে তার গতিরোধ করে গাড়ির নিচ থেকে রুবিনাকে বের করা হয়। ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো যায়নি তাকে।
উত্তেজিত লোকজন ঘটনাস্থলেই আজহার জাফর শাহকে পিটুনি দেয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করায়। পরে নিহত রুবিনার পরিবার মামলা করলে হাসপাতাল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। চিকিৎসা শেষে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।