কোথায় দুর্নীতি হচ্ছে সেই তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্নীতি নিয়ে যে কথা বলে, আমি তো পার্লামেন্টে বলেছি, কোথায় দুর্নীতি হচ্ছে আমাকে তথ্য দিন। আমি ব্যবস্থা নেব।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শুধু মুখে মুখে (দুর্নীতির কথা) বললে তো হবে না। এখন এমন লোকজনের কাছ থেকে আমাকে শুনতে হচ্ছে, যারা নিজেরাই দুর্নীতিগ্রস্ত। যাদের আমলে দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ক্ষুদ্রঋণের ব্যবসা করতে গিয়ে গরিব মানুষের ওপর চাপ, যে সুদ দিতে দিতে তাদের অনেক সময় বাড়িঘর ছেড়ে এলাকা থেকে চলে যেতে হয়েছে অথবা আত্মহত্যা করতে হয়েছে।
গতকাল শনিবার আওয়ামী লীগের যৌথসভা সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দুপুর ১২টার পর আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত জাতীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের সমন্বয়ে যৌথসভা শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ গরিব মানুষের টাকা দিয়েই কিন্তু দেশে নাম-টাম করে বেশ ভালোই আছে এবং প্রচুর অর্থ-সম্পদের মালিক। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগও করে ফেলেছে। এই টাকাগুলো কোথা থেকে, এগুলো গরিবের রক্তচোষা টাকা। এটা পতা বাস্তব কথা।
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার পর বিশ্বমন্দার মাঝে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে নানা খাতে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর কথা চিন্তা করতে হবে। নিজস্ব উৎপাদনের মাধ্যমে নিজেদের চাহিদা মেটানোর ব্যবস্থা করতে হবে। মন্দার কারণে সরকার অনেক হিসাব-নিকাশ করে চলছে।
দেশে বেকার থাকার সুযোগ নেই জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দেশের এক-একটা সেক্টর ধপর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। ফলে আজ দারিদ্র্য কমাতে পেরেছি এবং কর্মসংস্থান ব্যাপকভাবে বাড়াতে পেরেছি। এখন তো কেউ ইচ্ছে করে বেকার থাকশে পারে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বেকার থাকার কোনো সুযোগ নেই। কারণ আমরা অনেক সুযোগ সৃষ্টি করেছি। ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে অনেক ছেলেমেয়ে কিন্তু এখন গ্রামে বসে অর্থ উপার্জন করছে। এভাবে যত সুযোগ আছে, আমরা করে দিয়েছি।
টানা ১৪ বছর সরকারে থাকায় ধারাবাহিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে মানুষের জীবনমান উন্নতি হয়েছে দাবি করে সরকারপ্রধান আরও বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের অসুবিধা হচ্ছে। আমাদের দেশেও যারা একেবারে নির্দিষ্ট বেতনে চলতে হয়, তাদের জন্য কষ্ট হচ্ছে। সেটা আমরা বুঝি। সে জন্য বিদেশ থেকে অনেক টাকা খরচ করে খাবার কিনে নিয়ে আসছি। ভর্তুকিমূল্যে সেটা দিচ্ছি।