গত শনিবার নরসিংদীর হেরিটেজ পার্কে বসেছিল চলচ্চিত্রের বিভিন্ন বয়সের শিল্পীদের মিলনমেলা। নাচ, গান, আড্ডা, খাওয়া-দাওয়ায় তারকারা মাতিয়ে রেখেছিলেন পুরোটা সময়। কারণ এদিন ছিল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বনভোজন। এই আয়োজনটির জন্য প্রতি বছর অপেক্ষায় থাকেন চলচ্চিত্রের শিল্পীরা। তারকাদের পাশাপাশি সিনেমার সব ধরনের শিল্পীরা এই আয়োজনকে করে তোলেন মুখরিত। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসবের আমেজেই শেষ হলো ২০২৩ সালের এই বনভোজন। সকাল থেকে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসা পর্যন্ত নানা আয়োজনে পূর্ণ ছিল এবারের বনভোজন। তবে এবার বেশ কিছু উপস্থিত থাকলেও প্রথমসারির অনেক তারকার অনুপস্থিতি উৎসবের রঙ কিছুটা ম্নান করে দেয়। এ উৎসবে এর আগে সিনিয়র অনেক শিল্পী থেকে শুরু করে সুপারস্টাররা হাজির হতেন। এবার হাতে গোনা দু-চারজন জনপ্রিয় শিল্পী উপস্থিত ছিলেন। দেখা যায়নি আলমগীর, সোহেল রানা, ফারুক, উজ্জ্বল, প্রবীর মিত্র, ববিতা, সুচন্দা, চম্পা, শবনম, নূতন ও অরুণা বিশ্বাসের মতো কিংবদন্তিদের। তবে উপস্থিত সুজাতা আজিম, খালেদা আক্তার কল্পনা, অঞ্জনা, ওস্তাদ জাহাঙ্গির আলম ও কাজী হায়াতের মতো তারকারা। এখন যারা চলচ্চিত্রে কাজ করছেন না তাদের এই মিলনমেলায় দেখার আসায় থাকেন সবাই। কিন্তু তেমন তারকারাও সেভাবে উপস্থিত ছিলেন না। দেখা মেলেনি মৌসুমী, ওমর সানি, পূর্ণিমা, পপি, আমিন খান, অমিত হাসান, বাপ্পারাজ, সম্রাট, শিল্পী, সোনিয়াসহ অনেককে। আবার অনিয়মিত তারকাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শাহনূর, শারমিন, পলি, একা, নাসরিন, মারুফসহ কয়েকজন তারকা। শাকিব খান, অপু বিশ্বাস, শবনম বুবলী, সিয়াম আহমেদ, পূজা চেরী, বিদ্যা সিনহা মিম, নুসরাত ফারিয়া, মাহিয়া মাহি, পরীমণি, শরিফুল রাজ, নিরব, রোশান, তানহা তাসনিয়ার মতো সিনেমার ব্যস্ত তারকাদের কাউকেই দেখা যায়নি। জনপ্রিয় মুখের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আয়োজন সংগঠন শিল্পী সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন, সাধারণ সম্পাদক নিপুণ, সম্পাদক পদে থাকা রিয়াজ আমহেদ, সাইমন সাদিক ও ইমন। ব্যস্ত তারকাদের মধ্যে হাজির হয়ে দ্যুতি ছড়ান চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ, বাপ্পী চৌধুরী, অভিনেত্রী সোহানা সাবা, তারকা দম্পতি অন্তত জলিল ও বর্ষা। আরও এসেছিলেন চিত্রনায়িকা কেয়া, শিরিন শিলা, গায়িকা মেহরিন, জুঁই, নির্মাতা শাহিন সুমন, খলনায়ক ডন, কাবিলা, গাঙ্গুয়াসহ কয়েকজন তারকা শিল্পী। কিছুসংখ্যক তারকাশিল্পীর অনুপস্থিতির জন্য যে সব সময় শিল্পী সমিতির দায় রয়েছে তা নয়। অনেকে ব্যক্তিগত কারণেও হাজির থাকতে পারেননি।
এবারের বনভোজনে খাওয়া-দাওয়া আর হেরিটেজ পার্কের নয়নাভিরাম পরিবেশ উপভোগের পাশাপাশি ছিল প্রয়াত তারকা শিল্পীদের ছবি প্রদর্শন, পিঠা উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র্যাফেল ড্রর মাধ্যমে ১৮টি পুরস্কার প্রদান। যার মধ্যে ১ম পুরস্কার ছিল ৫২ ইঞ্চি কালার এলইডি টেলিভিশন। অনেকে খাবারের ব্যবস্থাসহ অনেক ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ আনলেও আবার অনেকের কথায় এমন একটি বড় আয়োজনে একটু-আধটু সমস্যা হতেই পারে। চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি কাজী হায়াৎ বনভোজনে এসে বলেন, ‘এখানে এসে আড্ডা দিচ্ছি। দেখা হচ্ছে সবার সঙ্গে। খুব ভালো লাগছে। বনভোজনের স্পটে প্রবেশ করেই চোখে পড়ল বেশ কিছু সাদা-কালো ছবি। সেসব ছবিতে না ফেরার দেশে চলে যাওয়া তারকাদের স্মরণ করেছে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। এই ট্রিবিউট দিয়ে শিল্পীদের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুণরা।’
সামগ্রিক আয়োজন নিয়ে চিত্রনায়িকা ও শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি শিল্পী সমিতির সব শিল্পীকে একত্র করতে। কারণ ব্যস্ততার জন্য সবার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হয় না। এফডিসিতে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা হলেও সে সময় কাজ নিয়ে সবাই ব্যস্ত থাকেন। তাই এ ধরনের আয়োজন শিল্পীদের বন্ধন আরও শক্ত করে। শুধু শিল্পী নয়, এবার শিল্পীদের পুরো পরিবারকে আমরা আমন্ত্রণ করেছি। তাদের উৎসাহিত করতে কিছু ভালো পুরস্কারেরও ব্যবস্থা করেছি। সাধারণত নায়ক-নায়িকাকেই সব অনুষ্ঠানে প্রাধান্য দেওয়া হয়। কিন্তু আমি চলচ্চিত্রের ছোট ছোট চরিত্রের শিল্পীদেরও সম্মান দিয়েছি তাদের মঞ্চে ডেকে। কারণ আমি বিশ্বাস করি একটি ভালো সিনেমা হতে গেলে প্রতিটি শিল্পীর অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। আমি এই শিল্পীদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীকে এফডিসিতে আনার ব্যাপারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সেই সঙ্গে সিনেমার সংখ্যা বাড়ানো, শিল্পীদের কাজ বাড়ানোর ব্যাপারে কাজ করছি।’
বনভোজনে প্রতিপক্ষ জায়েদ খানকে নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে নিপুণ বলেন, ‘অবশ্যই। তিনি যেহেতু শিল্পী সমিতির সদস্য, আমরা অন্য শিল্পীর মতো তাকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছি। যারা আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে এত দূর এসেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে আমাদের সিনিয়র শিল্পীদের। এই বয়সেও তারা চলচ্চিত্রকে যতটা ভালোবাসে, তা দেখে তরুণদের শেখার আছে।’