চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে প্রথমবারের মতো বার্থিং হলো ২০০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১০ মিটার ড্রাফটের একটি জাহাজের। গতকাল নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বন্দরের সিসিটি-১ জেটিতে বেলুন উড়িয়ে এমভি কমন অ্যাটলাসের বার্থিংয়ের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের শেষে অথবা ২০২৬ সালে শুরু হতে পারে বে টার্মিনালের অপারেশনাল কার্যক্রম।
২০২৪ সালে বে-টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য ছিল। করোনা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমরা পিছিয়ে পড়েছি। সাড়ে ৩ হাজার মিটারের বে-টার্মিনালের কাজ সবার পরামর্শ নিয়ে করা হচ্ছে । এখন থেকে এ বন্দরে ২০০ মিটারের বড় ও ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ ভিড়তে কোনো বাধা নেই। ২০২৬ সালের শেষে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হবে বলে জানান নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
লন্ডনভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান বন্দর চ্যানেল নিয়ে সমীক্ষা চালানোর পর ১০ মিটার ড্রাফট এবং ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যরে জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পারবে বলে সুপারিশ করে।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে ২০০ মিটার দীর্ঘ ও ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানো প্রসঙ্গে নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ বলেন, বড় দৈর্ঘ্যরে জাহাজ ভেড়ানোর মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর ইতিহাস গড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির চাকা হিসেবে খ্যাত, সে চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসেও যুক্তরাজ্যের ভূমিকা রয়েছে। এবার বড় জাহাজ ভেড়ানোর কাজে যে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা করেছেন তারাও যুক্তরাজ্যের।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহানের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন অনুষ্ঠানের ব্রিটিশ হাইকমিশনার এইচ আর রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন, বিশেষ অতিথি নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম, যুক্তরাজ্যভিত্তিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থা এইচআর ওয়েলিংফোর্ডের প্রতিনিধি ড. মনজুরুল কাদের, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মো. আরিফ।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, এটি বন্দরের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ২০০ মিটার লম্বা ও ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ‘কমন অ্যাটলাস’ ভিড়েছে। বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ব্রাজিল থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টন চিনি নিয়ে ‘এমভি কমন এটলাস’ চট্টগ্রাম বন্দরে আসে গত রবিবার। জাহাজটি থেকে বহির্নোঙরে কিছু চিনি লাইটার জাহাজে (ছোট জাহাজ) খালাস করার পর ড্রাফট কমানো হয়। পরবর্তী সময়ে ৩৬ হাজার টন চিনি নিয়ে জাহাজটি ১০ মিটার ড্রাফট নিয়ে এনসিটি এক নম্বর জেটিতে ভিড়ে। এই জাহাজ ভেড়ার আগে বন্দরে সর্বোচ্চ ১৯০ মিটার দীর্ঘ ও ৯ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়ত। এখন থেকে সর্বোচ্চ ২০০ মিটার ও ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারবে বলে যুক্তরাজ্যের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এইচআর ওয়ালিংফোর্ড রিপোর্ট দেওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
বেশি ড্রাফট এবং বড় দৈর্ঘ্যরে জাহাজ জেটিতে ভেড়ার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানিকারকরা উপকৃত হবেন বলে আশা করছে সরকার।