মাদারীপুরে ভূমি অধিগ্রহণের ২ কোটি টাকা একটি প্রতারক চক্র হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মাদারীপুর সদর থানায় গতকাল বুধবার দুপুরে মামলা হয়েছে। এ মামলায় পুলিশ গ্রেপ্তারও করেছে একজনকে।
মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ডাইয়ারচর মৌজার পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তির ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে একটি প্রতারক চক্র ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা উত্তোলন করে। পরে জমির প্রকৃত মালিক হারুন ব্যাপারী জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেন। এতে ঘটনাটি জানাজানি হয়।
পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুনের নির্দেশে মাদারীপুর ভূমি অধিগ্রহণ শাখার অফিস সহকারী সোহাগ মোল্লা বাদী হয়ে মাদারীপুর সদর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় শিবচর উপজেলার বন্দরখোলা ইউনিয়নের রাজারচর মফিতুল্লাহ হাওলাদারকান্দি গ্রামের নাজির ব্যাপারীর ছেলে শাহিন ব্যাপারী (৫৬), দত্তপাড়া গ্রামের দুলাল হাওলাদারের ছেলে আলী জামান (৫৫) ও আক্তারুজ্জামান (৪৫) এবং বাঁচামারা গ্রামের নাসির উদ্দিন এবং দত্তপাড়া খাঁকান্দি গ্রামের জাহাঙ্গীর খানের ছেলে নজরুল খাঁকে (৩৫) আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে শাহিন ব্যাপারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
বাদী সোহাগ মোল্লা মামলার নথিতে দাবি করেন, আসামিরা ১ কোটি ৮৮ লাখ ১৪ হাজার ৩০০ টাকা প্রতারণামূলকভাবে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে। প্রকৃতপক্ষে আসামিদের ওই দাগে কোনো সম্পত্তি নেই। বিভিন্ন প্রকার ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সরকারি অর্থ ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে তুলে নিয়েছে।
এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত হারুন ব্যাপারী বলেন, জমির বিল তুলতে গেলে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হই। পরে জানতে পারি আমার জমির বিল একটি প্রতারক চক্র নিয়ে গেছে।
মাদারীপুর সদর থানার ওসি মনোয়ার হোসেন জানান, মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, ভূমি অধিগ্রহণে প্রতারণার সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।