সরকারের নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পাঁচ দিনের মাথায় বাড়ানো হলো গ্যাসের দাম। পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজি, আবাসিক, সার ও চা শিল্প ছাড়া অন্য খাতে গ্যাসের দাম ১৪ থেকে ১৭৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। গ্যাসের দাম বাড়িয়ে গতকাল বুধবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। নতুন দাম ফেব্রুয়ারিতে কার্যকর হবে।
গত ১২ জানুয়ারি নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম ৫ শতাংশ বাড়ায় বিদ্যুৎ বিভাগ, যা চলতি মাসে কার্যকর হয়েছে। আর গণশুনানির মাধ্যমে সর্বশেষ গত ৪ জুন সব শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাসের দাম গড়ে ২২.৭৮ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। তবে চলতি মাসে দুই দফা বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বেড়েছে কোনো ধরনের গণশুনানি ছাড়াই।
নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম ৫.০২ থেকে বাড়িয়ে ১৪ টাকা করা হয়েছে। শিল্পকারখানায় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎপাদিত বিদ্যুতে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ১৬ থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা এবং বাণিজ্যিক (হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ও অন্যান্য) খাতে ২৬.৬৪ থেকে বাড়িয়ে ৩০.৫০ টাকা করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি দাম বাড়ানো হয়েছে শিল্প খাতে। বর্তমানে বৃহৎ, মাঝারি ও ক্ষুদ্র (কুটির ও অন্যান্য) শিল্পে ব্যবহৃত প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম যথাক্রমে ১১.৯৮, ১১.৭৮ এবং ১০.৭৮ টাকা। তবে সরকারের নির্বাহী আদেশে সব ধরনের শিল্পে গ্যাসের দাম ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, প্রতি ঘনমিটার সিএনজির মূল্যহারের মধ্যে ফিড গ্যাসের মূল্যহার ৩৫ ও অপারেটর মার্জিন ৮ টাকা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ ছাড়া আবাসিক ছাড়া অন্যান্য শ্রেণির গ্রাহককে প্রতি ইউনিট অনুমোদিত লোডের বিপরীতে মাসিক ১০ পয়সা হারে ডিমান্ড চার্জ দিতে হবে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রমতে, গত ডিসেম্বরে পাইকারি দাম বৃদ্ধির পরও লোকসান করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ জন্য সরকার এ বছর ১৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ রেখেছে। বর্তমান দামে কয়লা, জ্বালানি তেলসহ সব জ্বালানি পেলেও পিডিবির ঘাটতি হতে পারে ৩০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা। এখন গ্যাসের দাম বাড়ায় তা আরও বেড়ে যাবে। তাই আবার বাড়তে পারে বিদ্যুতের দাম। কারণ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৫১.০৮ শতাংশ আসে গ্যাসচালিত কেন্দ্র থেকে।
এতদিন গণশুনানির মাধ্যমে শুধু বিইআরসি গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করত। কিন্তু বিইআরসির পাশাপাশি নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ যাতে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করতে পারে সে জন্য চলতি মাসে ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) আইন’-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
এর আগে গত ২৮ নভেম্বর ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২২’-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। গত ১ ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২২’ জারি করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এ অধ্যাদেশ বলে বিইআরসির পাশাপাশি সরকার চাইলেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়াতে বা কমাতে পারবে।