চট্টগ্রামে ছক্কার বান

‘ব্যাটে লাগলেই ছক্কা’ ফরচুন বরিশালের ইনিংসের শেষটা এমনই ছিল। স্টেডিয়ামের সবার আকাশে তাকিয়ে থাকা ছাড়া উপায় ছিল না। বলে-বলে বিশাল সব ছক্কার বাহার জমেছিল চট্টগ্রামে। সাকিব আল হাসান ও ইফতিখার আহমেদের এই ছক্কা উৎসবে বিপিএলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরও হয়ে গেল। তাদের ৪ উইকেটে করা ২৩৮ রান টপকে পরে ব্যাট করে জেতা কঠিন। রংপুর রাইডার্সের পক্ষে তা সম্ভবও হয়নি। তবে ৯ উইকেটে ১৭১ রান করে তারা একেবারে লজ্জাতেও পড়েনি। ৬৭ রানের জয়ে চট্টগ্রামে বরিশাল টানা তিন জয়।

গতকাল বরিশালের ইনিংসে ১৯ ছক্কা হয়েছে। ম্যাচে হয়েছে মোট ২৭টি। যা বিপিএলে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ। একই সংখ্যক ছক্কা হয়েছিল ২০১৩ সালে ঢাকা গ্লাডিয়েটরস ও সিলেট রয়্যালস ম্যাচে। ক্রিস গেইল একাই মেরেছিলেন ১২টি। এছাড়া ২০১৭-তে ২৬ ছক্কায় গেইলের ছিল ১৮টি। ২০১২-তেও ছিল এক ম্যাচে ২৬টি। ৪৬ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর বরিশালের হয়ে সাকিব-ইফতিখারের জুটি বিপিএলের সেরা তিনে জায়গা করে নিয়েছে। দুজনে ১৯২ রান যোগ করেছেন মাত্র ৮৯ বলে। তাদের আগে লু ভিনসেন্ট-শাহরিয়ার নাফিসের ১৯৭ ও গেইল-ম্যাককালামের ২০১ রান। দুই ব্যাটারই তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ার সেরা স্কোর। সাকিব ৪৩ বলে ৯ চার ও ৬ ছক্কায় টি-টোয়েন্টিতে নিজের সর্বোচ্চ ৮৯ রান করেন। আর ইফতিখান তার ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নিয়েছেন ৯ ছক্কা ও ৬ চারে ৪৫ বলে ১০০ করে। সংক্ষিপ্ত স্কোর : বরিশাল : ২৩৮/৪ (ইফতিখার ১০০*, সাকিব ৮৯*, হাসান ২/৩১)। রংপুর : ১৭১/৯ (শামিম ৪৪*, নাওয়াজ ৩৩; মিরাজ ৩/২৬)। ম্যাচ সেরা : ইফতিখার আহমেদ। ফল : ফরচুন বরিশাল ৬৭ রানে জয়ী। 

জয়ের হ্যাটট্রিক কুমিল্লার

ম্যাচ শেষে দুদলের ১৫ ওভারের রানে তাকালে মাত্র ৭ রানের পার্থক্য নজরে আসবে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ছিল ১০০/৩; ঢাকা ডমিনেটরসের ৯৩/৪। কিন্তু ১৬তম ওভারই গড়ে দিয়েছি ম্যাচের ভাগ্য। আমির হামজার ওই ওভারে খুশদিল শাহ একাই নিলেন ২৯। টানা তিন ছক্কা, এরপর চার ও একটি ওয়াইড দেওয়ার পর আবারও চার হজম করেন আফগানি বাঁহাতি স্পিনার। কুমিল্লার সাদামাটা সংগ্রহের সম্ভাবনাকে এক ঝাটকায় দুইশোর দিকে তুলে দেন খুশদিল। অথচ ঢাকা একই ওভারে রান নিতে পেরেছে মাত্র ১০। কুমিল্লা খুশদিলের জন্যই শেষ ৫ ওভারে ৮৪ রান তুলেছে। অপরদিকে ঢাকা ৫৮ রান তুলে শেষ ৫ ওভারে।

দুই দলের এই রান পার্থক্যটা বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টির করুণ চিত্রটাও তুলে ধরে। ঢাকার হয়ে শেষের ওই ৫ ওভারে নাসির হোসেন, মোহাম্মদ মিঠুন ও আরিফুল হক ব্যাটিংয়ে ছিলেন। চেষ্টা করেছেন দ্রুত রান তোলার। আরিফুল ও নাসির মিলে এই সময়ে ৬টি চার ও ২ ছক্কা মারতে পারেন কেবল। অথচ এক টানে ম্যাচ বের করে আনার যে শক্তি তা নেই বাংলাদেশি ব্যাটারদের। যে ব্যাপারটি খুশদিলের ব্যাটিংয়ে স্পষ্ট। এক ওভারেই নিজের ইনিংসের ৫ ছক্কার তিনটি মেরেছেন। এক ওভারেই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়া পারফরম করেছেন।

টি-টোয়েন্টির এই যুগে এ ব্যাপারটাই যখন সবচেয়ে বেশি দরকার তা বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারেরই নেই। এই আসরে এখন পর্যন্ত সাকিব আল হাসান ছাড়া একমাত্র বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে জাকির হাসান বলার মতো স্কোর (১৮ বলে ৪৩) করেছেন। ওই স্কোরে সিলেট স্ট্রাইকার্স ঢাকার প্রথম পর্বে বরিশালের বিপক্ষে ম্যাচও জিতেছে। তবে এমন ইনিংস আর আসে না বাংলাদেশ ব্যাটারদের থেকে। তাই বারবার সব দলের জন্য খুশদিল বা উইন্ডিজ ব্যাটাররাই ভরসা।

খুশদিলের ওই ইনিংস ছাড়া কুমিল্লার জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ৪৭ বলে ৩ ছক্কা ও ১ চারে ৫৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। এছাড়া ইমরুল কায়েন ২৬ বলে ৩৩ ও জনসন চার্লস ১৯ বলে ২০ করেন। ১৮৬ তাড়া করতে বরাবরের মতো চরম ব্যর্থ সৌম্য সরকারকে হারিয়ে বিপদে পড়ে। মাত্র ৪ বল খেলে ভুল শটে পয়েন্টে দাঁড়ানো ফিল্ডারের হাতে তুলে দেন এই ব্যাটার। পরে রবিন দাশও স্ট্যাম্পড হয়ে ফেরেন ০ রানে ঠিক ৪ বল খেলেই। এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইংলিশ ব্যাটার দুই ম্যাচে রানের হিসাবই খুলতে পারলেন না। এছাড়া ১৯ রান করা আহমেদ শেহজাদ রান আউট হলে ৩৪ রানে ৩ উইকেট হারায় ঢাকা। প্রথম পর্বের মতো এবারও তাই ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নিতে হয় মিঠুন ও নাসিরকে। দুজনে ৫১ রান করে দলের হারের ব্যবধান কমিয়েছেন কেবল। মিঠুন ৩৪ বলে ৩৬ রান করে ফেরেন। নাসির ৪৫ বলে ৬৬ ও আরিফুল ১৭ বলে ২৪ রান করে শেষ পর্যন্ত ৬৬ রানের জুটি গড়ে টিকে থেকেও দলকে জেতাতে পারেননি।