সরকারি চাকরি বা প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকে অবসর কিংবা পদত্যাগের পর তিন বছর সময় অতিবাহিত না হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া যাবে না গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) এমন বিধান নিয়ে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ বিধান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে কেন তা অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না এবং সংবিধান পরিপন্থী হওয়ায় কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।
এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়। আইন সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্থানীয় সরকার সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, জনপ্রশাসন সচিব, লালমনিরহাট জেলার জেলা প্রশাসককে রুলের জবাব দিতে বলেছে আদালত।
আরপিওর ১২(১) (চ) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্র্তৃপক্ষের বা প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগের কোনো চাকরি হতে পদত্যাগ করেছেন বা অবসরে গিয়েছেন এবং তার পদত্যাগ বা অবসরে যাওয়ার পর তিন বছর অতিবাহিত না হলে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া বা থাকার যোগ্য হবেন না। এ বিধান চ্যালেঞ্জ করে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও লালমনিরহাটের আদিতমারীর বাসিন্দা মো. শামীম কামাল গত ১৫ জানুয়ারি হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। গত বছরের ২৫ অক্টোবর তিনি অবসরে যাওয়ার পর আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাটের একটি সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচন করতে ইচ্ছুক বলে জানান তার পক্ষের আইনজীবীরা।
আদালতে শামীম কামালের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী হাসান এম এস আজিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল গোলাম সারওয়ার পায়েল।
ব্যারিস্টার আজিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সংবিধানের ৬৬ (২) অনুচ্ছেদে সংসদ হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার কথা বলা হয়েছে। সেখানে সরকারি চাকরিরত অবস্থায় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারার বিষয়টি উল্লেখ আছে। কিন্তু অবসর বা পদত্যাগের পর কী হবে সেটি উল্লেখ নেই। তাহলে ধরে নিতে হবে সংবিধান এটি গ্রহণ করেছে। সংবিধানতো সর্বোচ্চ আইন। এখানে বিকল্প আইনতো চলতে পারে না। আরপিওর এ বিধান কার্যকরি করতে হলে সংবিধান সংশোধনের প্রশ্ন আসে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনে কিন্তু এ ধরনের কোনো বিধান আরোপিত হয়নি। শুধুমাত্র সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে এ ধরনের বিধান চালু রাখা বৈষম্যমূলক ও অসাংবিধানিক।’