দেশের বামপন্থিরা এখন ক্ষমতায় যাওয়ার কথা ভাবতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি বলেন, ‘কমিউনিস্ট পার্টি এখন সিরিয়াস। তারা এখন ক্ষমতায় যাওয়ার কথা ভাবতে শুরু করেছে। সরকারে যেই থাকুক না কেন তাকে গদি থেকে সরিয়ে বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ে তোলা হবে।’
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির লাল পতাকা সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘দেশে আওয়ামী লীগের শাসন করার কোনো অধিকার নেই। সরকার বলেছে উন্নয়ন করছি। উন্নয়ন করলে কিছু কষ্ট হবে। তারা উন্নয়নের নাম দিয়েছে ‘প্রসববেদনা’। প্রসববেদনা যদি পঞ্চাশ বছর চলে, তাহলে ধরে নেবেন প্রসূতি মরে গেছে। পেটের সন্তানেরও অবসান হয়ে গেছে। এই প্রসববেদনার যন্ত্রণা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া চলবে না।’
সিপিবির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘সামনে নির্বাচন। ক্ষমতার খেলা শুরু হয়েছে। সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক বলে ‘খেলা হবে’। আর কত দিন খেলবেন। এরশাদ স্বৈরাচারের পতনের পর গত ৩২ বছর ধরে আপনারা দুই বড় দল দেশ জনগণকে নিয়ে খেলছেন। দেশের জনগণ ও গণতন্ত্রকে জিম্মি করে রেখেছেন। আপনাদের গণবিরোধী খেলার কারণে গণতন্ত্র নির্বাসনে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশে সংঘাত ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি চলছে। গণতন্ত্র নির্বাসনে। মানুষ জীবনজীবিকা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের হাতিয়ারগুলোকে শক্তিশালী করা হয়েছে। দেশে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, ভয়ের রাজনীতি চলছে, দেশ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। গুম, খুন, নারী ও শিশু নির্যাতন, পাচার, বৃদ্ধি পেয়েছে। হামলা-মামলা চলছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ অসংখ্য কালো আইনে দেশ বন্দি।’
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘দেশের টেলিভিশন খুললে দেখা যায় উন্নয়নের জোয়ার, কিন্তু উন্নয়ন বাস্তবে আমরা দেখি যখন বাজারে যাই। উন্নয়নের নামে দুর্নীতি লুটপাটের মহাউৎসব চলছে। যারা ক্ষমতায় আছে তাদের ওপর ভরসা করার কিছু নেই। ক্ষমতাসীনরা মানুষের ভোটাধিকার পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতার বাইরে আরেক দল আছে। যারা একাত্তরের পরাজিত শক্তি নিয়ে রাজনীতি করছে। তারাও একটা সেøাগান তুলেছে, টেক ব্যাক বাংলাদেশ। মানে বাংলাদেশকে তাদের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে। এই হাওয়া ভবনের রাজত্বে বাংলার জনগণ আর ফিরে যাবে না। তাদের মিষ্টি কথায় কান দেওয়া যাবে না।’
এদিকে সমাবেশ থেকে একগুচ্ছ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। এর মধ্যে বিদ্যুৎ-গ্যাস-নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ২৮-২৯ জানুয়ারি দেশের সকল জেলা-উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ। এ ছাড়া ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে বিভাগীয় সদর জেলায়-উপজেলায় সমাবেশ-পদযাত্রা। ৬ মার্চ দলটির ৭৫তম বার্ষিকীতে মাসব্যাপী নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।