পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে চট্টগ্রামে বেকায়দায় পড়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। গ্রেপ্তার এড়াতে গা-ঢাকা দিয়েছেন শীর্ষ নেতারা। গতকাল শুক্রবার দিনভর নাসিমন ভবনের নগর বিএনপির কার্যালয়ে পা মাড়াননি কোনো নেতাকর্মী। পুলিশ নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় ২৫৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১ হাজার ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ এ পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, অগ্নিসংযোগ ও দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগে পুলিশ চারটি মামলা করেছে। আসামি করা হয়েছে প্রায় দেড় হাজার নেতাকর্মীকে। এর মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, নগর যুবদল সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তিসহ ২৫৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১ হাজার ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তিসহ ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সিএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নোবেল চাকমা দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুলিশের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগে করা চার মামলায় এখন পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা ঘটনায় জড়িত তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে নিরীহ কেউ যাতে এ মামলায় জড়িয়ে না পড়ে সে জন্য ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়ার পর আসামি গ্রেপ্তারের অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে সোমবারের সংঘর্ষের ঘটনায় একাধিক মামলা হওয়ার পর থেকে মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা মোবাইল বন্ধ রেখেছেন। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন ও সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের মোবাইলে বৃহস্পতিবার কয়েক দফা ফোন করে বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনার দিন ২৫ জন ও বৃহস্পতিবার দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে আরও ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম নগরীতে ২৫ জানুয়ারি কেন্দ্রঘোষিত নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা আদায়ে দেশব্যাপী সমাবেশ কর্মসূচি পালন নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, নতুন করে মামলার আসামি হওয়ার পর গ্রেপ্তার এড়াতে নগর বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা আপাতত আত্মগোপনে আছেন। তারা উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সাপ্তাহিক ছুটি শেষে আদালত খুললে শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা উচ্চ আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইতে পারেন বলে জানিয়েছে সূত্র।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকার পুলিশকে ব্যবহার করে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে। মামলা-হামলা দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছে। তারা কোনো ধরনের গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালনের মতো পরিবেশ রাখেনি। পুলিশ প্রশাসন আমাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নেমেছে। মিলাদ পড়ে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময়ও আমাদের কর্মীদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর নুর আহমদ সড়কে নাসিমন ভবনে নগর বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের কারও দেখা মেলেনি। অফিসের সবকটি রুমই ছিল তালাবদ্ধ। ফাঁকা পেয়ে কার্যালয়ের সামনের মাঠে স্থানীয় ছেলেদের ক্রিকেট খেলায় মেতে উঠতে দেখা যায়।
নগর বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পুলিশ আমাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে পাহারা বসিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে মিলাদের কর্মসূচি থেকেও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে। এভাবে তারা বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে ভয়ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।’
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত সোমবার নাসিমন ভবনে কার্যালয়ের মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে মহানগর বিএনপি। সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার পথে কাজির দেউড়ি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় বেশ কজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। বিক্ষুব্ধ বিএনপিকর্মীরা এ সময় কয়েকটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুড়তেও দেখা যায়।