রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে দুই জঙ্গি গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় গুলি বিনিময়ের পর নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার’ সামরিক শাখার প্রধান রণবীরসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

এ সময় ১টি বিদেশি পিস্তল, ২টি দেশীয় তৈরি লম্বা বন্দুক, ৩টি ম্যাগজিন ভর্তি গুলি, ১১২ রাউন্ড কার্তুজ ও নগদ ২ লাখ ৫৭ হাজার ২৬০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার ভোরে উখিয়ার কুতুপালং সাত নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ‘এ’ ব্লক এলাকায় সকাল ১০টা পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়।

গ্রেপ্তার দুজন হলেনথ জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার সামরিক শাখার প্রধান ও শুরা সদস্য মাসিকুর রহমান মাসুদ ওরফে রণবীর ও তার সহযোগী বোমা বিশেষজ্ঞ আবু বাশার। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন জানিয়েছেন, র‌্যাবের ধারাবাহিক অভিযানে গোয়েন্দা তথ্য ছিল নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার’ সামরিক শাখার প্রধান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আত্মগোপনে রয়েছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল ভোরে কুতুপালং সাত নম্বর ক্যাম্পের ‘এ’ ব্লকে অভিযান শুরু হয়। অভিযানে র‌্যাবের অবস্থান টের পেয়ে জঙ্গিরা পাশের পাহাড়ে চলে যান। র‌্যাব ওখানে অভিযান শুরু করলে সশস্ত্র লোকজন র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় সংগঠনটির শীর্ষস্থানীয় এক নেতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

খন্দকার আল মঈন জানান, রণবীরের নেতৃত্বে তরুণদের জঙ্গিবাদে জড়িয়ে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছিল। এর ভিত্তিতে পার্বত্য এলাকায়ও অভিযান হয়েছে। এ পর্যন্ত এ সংগঠনটির ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সামরিক শাখার প্রধানসহ এবার গ্রেপ্তার দুজনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। 

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, নতুন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কেন এলেন, তাদের সঙ্গে রোহিঙ্গার যোগসূত্র কী তা বের করতে কাজ করছে র‌্যাব। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করে কক্সবাজার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগের দিন রবিবার উখিয়ার বালুখালী ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই গ্রুপের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে কোনো হতাহত হয়নি। গত শনিবার উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আরসা প্রধানসহ ২৮ জনের নামে পোস্টার সাঁটানো হয়। উখিয়ার সাত নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা কবির আহমদ বলেন ভোর থেকে র‌্যাব ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি হয়। তবে কোনো হতাহত হয়নি। তিনি আরও বলেন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।