স্কাউটদের মধ্য থেকে তৈরি হবে আগামী নেতৃত্ব : প্রধানমন্ত্রী

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে স্কাউট প্রশিক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আমার লক্ষ্য থাকবে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন স্কাউট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়। সেই ব্যবস্থাটা নিতে হবে। তাহলেই আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সোনার বাংলা গড়া বা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার উপযুক্ত নাগরিক তৈরি হবে।’

গতকাল বুধবার সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাকে ৩২তম এশিয়া প্যাসিফিক ও একাদশ জাতীয় স্কাউট জাম্বুরির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন ২২ লাখ সদস্য আছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ লাখ স্কাউট সদস্য করা হবে। আমি চাই, আমাদের দেশটা আরও চমৎকারভাবে গড়ে উঠুক। যেখানে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এগুলোর কোনো স্থান হবে না। সাম্প্রদায়িকতা বা সন্ত্রাসবাদ থেকে মুক্ত থাকবে। আজকের শিশু যারা বড় হবে, তারা উদার মন নিয়ে বড় হবে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে। দেশকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং গঠন করার কাজ করবে।’

প্রধানমন্ত্রী স্কাউট ও স্কাউটারদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সুপ্ত আছে আমাদের ভবিষ্য রাজনৈতিক নেতা, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, অর্থনীতিবিদ, প্রকৌশলী, কবি, সাহিত্যিক, প্রশাসক, শিক্ষক ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য। যারা দেশের সেবা করছে। তোমাদের মাঝ থেকেই সবাই উঠে আসবে। তোমাদের জ্ঞান, তোমাদের চেতনা, তোমরাই তো পারবে এ দেশকে আগামী দিনে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং তোমাদের মাঝ থেকে সেই নেতৃত্ব গড়ে উঠবে, আমি সেই আশা করি।’

এর আগে অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে বাংলাদেশ স্কাউটের প্রধান জাতীয় কমিশনার ও জাম্বুরির সাংগঠনিক কমিটির সভাপতি ড. মো. মোজাম্মেল হক খান এবং বাংলাদেশ স্কাউটের সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। পরে তাকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন, স্কার্ফ, ব্যাচ ও ওয়াগল প্রদান করা হয়। এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণ, শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড বিতরণ ও এপিআর স্কাউট পতাকা হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারক প্রদান করা হয়। পরে তিনি স্কাউট সদস্যদের পরিবেশিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছি। এ সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনকালীন বাংলাদেশ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের মার্যাদা পেয়েছে। এখানেই থেমে থাকলে চলবে না, বাংলাদেশকে অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকের যে বাংলাদেশ ২০২২ সালে এসে আমরা দেখছি, তা কিন্তু এ রকম ছিল না, প্রতিনিয়ত সংঘাত, খুনোখুনি, অগ্নিসন্ত্রাস, দুর্নীতি, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পালা, নির্বাচন নিয়ে খেলা, নানা ঘাত-প্রতিঘাত আমাদের অতিক্রম করতে হয়েছে। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে আমরা উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। কাজেই আমি চাই আমাদের দেশের অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকুক। যেখানে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এদের কোনো স্থান থাকবে না। সাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাসবাদ থেকে মুক্ত থাকবে।’

শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘স্কাউটিং নতুন প্রজন্মকে নৈতিক ও জীবনধর্মী প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে, আর তরুণদের মধ্যে আধুনিক, প্রগতিশীল, সৃজনশীল গুণাবলি বিকশিত হয়। ফলে স্কাউট সদস্যরা সেবার মন্ত্রে দীক্ষিত হচ্ছে এবং সচেতন ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলছে। তাই আমি চাই, স্কাউট আরও ব্যাপকভাবে গড়ে উঠুক।’

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, সিমিন হোসেন রিমি এমপি, রুমানা আলী টুসি এমপি, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম, গাজীপুরের পুলিশ সুপার কাজী শফিকুল আলমসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের স্কাউটকে শক্তিশালী করতে সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্কাউট আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে আমরা নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ স্কাউট সম্প্রসারণে স্কাউট শতাব্দী ভবন নির্মাণ প্রকল্প, ৪৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সিলেটের মৌলভীবাজার জেলায় স্কাউট ভবন নির্মাণ প্রকল্প, ৪৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে আঞ্চলিক স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র লালমাই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাব স্কাউটিং সম্প্রসারণে চতুর্থ পর্যায়ের প্রকল্পের বাস্তবায়ন হচ্ছে। আমরা ৩৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাব দল গঠন এবং কাব স্কাউট প্রশিক্ষণের জন্য জাতীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মৌচাকে ৯ একর ভূমি বরাদ্দ দিয়েছি। তবে এ ভূমিতে বনায়ন ঠিক রাখতে হবে। এ ভূমিতে বনায়ন ধ্বংস করা যাবে না, বেশি স্থাপনা করা যাবে না।’

ডিজিটাল বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। আজকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড লাইন এবং স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ করেছি, ব্রডব্যান্ড লাইন আমরা গোটা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছি। বাংলাদেশের মানুষকে বিভিন্ন প্রযুক্তির শিক্ষা গ্রহণে উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা ইতিমধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্টস্ রোবটিক, ন্যানো টেকনোলজি এসব বিষয়ে যাতে আমাদের ছেলেমেয়েরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে তার ব্যবস্থা নিয়েছি, জিডিটাল ডিভাইস যাতে ব্যবহার করতে পারে, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিতে পারে, সে জন্য কম্পিউটার ল্যাব প্রতিটি স্কুলে করে দিচ্ছি। তা ছাড়া ইকো পার্ক, হাইটেক পার্ক, ইনকিউবেশন সেন্টার বিভিন্ন জেলা, উপজেলায় করে দিয়েছি, যাতে ডিজিটাল ডিভাইস সম্পর্কে আরও প্রশিক্ষণ নিতে পারে এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তুলেতে পারে।’