ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মাহফিল থেকে ফেরার পথে অন্তত ৩০টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা আটক করে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা মাহফিল ফেরত যাত্রীদের মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ও প্রায় তিন লাখ টাকা নিয়ে যায়। এ সময় ডাকাতদের হামলায় নারীসহ অন্তত ২০ যাত্রী আহত হন। ডাকাতের দায়ের কোপে সাদ্দাম নামে এক যাত্রীর হাতের চার আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গতকাল শুক্রবার ভোরে উপজেলার বড়ইউরি গ্রামের পাশে চাপৈরতলা-ছাতিয়াইন সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
চাপৈরতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম মনসুর আলী আহত যাত্রীদের বরাত দিয়ে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার রাতে চাপৈরতলার খান্দুরা গ্রামে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফয়েজ চিশতির বাড়িতে ওয়াজ শুনতে হাজারো ভক্ত জড়ো হন। ওয়াজ শেষে ভোররাত ৪টার দিকে বাড়িতে ফেরার পথে ২০-২৫ জনের ডাকাত দল যাত্রীবহনকারী ৩০টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা আটক করে। তারা শতাধিক যাত্রীকে নামিয়ে সড়কের পাশের জমিতে নিয়ে চোখ বেঁধে ফেলে। এরপর সবার কাছ থেকে মোবাইল ফোন, নারীদের স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে নেয়। ডাকাতির সময় যাত্রীদের উদ্ধার করতে গিয়ে সাদ্দাম মিয়া নামে এক যুবকের হাতে রামদা দিয়ে আঘাত করলে তার চারটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গতকাল সকালের দিকে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। গুরুতর আহত সাদ্দামকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
অন্য আহতদের মধ্যে রয়েছেন আলফাজ মিয়া, ফয়েজ মিয়া, ছোয়াব মিয়া, আলাল মিয়া, রমজান মিয়া, জোবাইদ মিয়া, আনালক মিয়া, আবু কালাম মিয়া, ভুট্টু মিয়া, হৃদয় মিয়া, আনাল হক, সাদ্দাম মিয়া, আনোয়ারা বেগম, শরিয়া বেগম, ইন্তেজ আলী, লায়েছ মিয়া, ফায়েজ মিয়া ও আবদুল মালেক মিয়া। আহত সবার নাম জানা যায়নি।
নাসিরনগর থানার ওসি মো. হাবিবুল্লাহ সরকার বলেন, ‘ভোররাতে চাপৈরতলা ইউনিয়নের বড়ইউরি গ্রামের পাশে কয়েকটা সিএনজি অটোরিকশায় ডাকাতি হয়। এ সময় কয়েকজন আহত হয়েছে বলে শুনেছি। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’