খানাখন্দে ভরা মেঘনার চার কিলোমিটার সড়ক

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার টিঅ্যান্ডটি মোড় থেকে সেননগর বাজার পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়ক এখন খানাখন্দে বেহাল। সড়ক ভাঙাচোরা থাকায় এখানে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের আলিপুর, করিমাবাদ, বিনোদপুর, সেননগর, দড়িকান্দি, দক্ষিণকান্দি, চরপাথালিয়া, হাসনাবাদ, সোনারচর, গোবিন্দপুর গ্রামসহ উপজেলার প্রধান ও বৃহত্তম মানিকারচর বাজার, সেননগর বাজার ও উপজেলা-থানাসহ বাসস্ট্যান্ডে প্রয়োজনীয় কাজে এই সড়কে প্রতিদিন অন্তত ২০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন মেরামত না করায় সড়কটি এখন চলাচল অনুপযোগী। প্রায়ই সড়কের এ অংশে দুর্ঘটনায় পড়ে অঙ্গহানি ঘটছে মানুষের। সড়কটিতে চলাচলকারী সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরা যারপরনাই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দক্ষিণকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব সাহারা বলেন, ‘এই রাস্তায় গাড়ি দিয়া না যাইয়া আইট্টা যাওন কত ভালা, ফাওয়ে কোলায় না দেইক্কা আটতারি না।’

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যাত্রী জয়নগর গ্রামের রাশিদা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কোনো অসুস্থ মানুষের পক্ষে এই সড়কে যাতায়াত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সন্তানসম্ভবা নারীদের জন্য সড়কটা তো মরণফাঁদ।’

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক সুরুজ মিয়া বলেন, এই সড়কে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাই, যাত্রী তুলনামূলক কম, অতিরিক্ত চার্জ লাগে, গাড়িরও দুই দিন পর পর যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়।

এ বিষয়ে গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাইনুদ্দিন মুন্সি তপন বলেন, একাধিকবার এই সড়ক সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। গত সমন্বয় সভায়ও করেছি। আশা করছি খুব শিগগিরই সড়কটির মেরামত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।  এ বিষয়ে উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী অহিদুল ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান, বন্যায় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত প্রকল্পের আওতায় গত ৪ সেপ্টেম্বর প্রাক্কলন করে নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর দেওয়া আছে। আশা করি খুব শিগগিরই কাজের প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে।