জেরুজালেমে সিনাগগে বন্দুক হামলায় নিহত ৭

পূর্ব জেরুজালেমে ইহুদিদের এক সিনাগগে বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত সাতজন নিহত ও আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত প্রায় সোয়া ৮টার দিকে এক বন্দুকধারী সিনাগগটিতে উপস্থিত হয়ে গুলিবর্ষণ শুরু করেন। পরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ওই হামলাকারী। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গতকাল শনিবার ৪২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েল পুলিশ।

বিবিসি বলছে, আন্তর্জাতিক হলোকাস্ট স্মরণ দিবসের দিন সাবাথের প্রার্থনায় যোগ দেওয়ার জন্য ধর্মানুরাগীরা সিনাগগটিতে উপস্থিত হওয়ার পর হামলা হয়। টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে, গুলিতে নিহত বেশ কয়েকজন সিনাগগটির সামনের রাস্তায় পড়ে আছেন আর জরুরি বিভাগের কর্মীরা তাদের ফয়েল পেপার দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন।

ইসরায়েলের পুলিশ এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী ঘটনা’ বলে বর্ণনা করেছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। গাজা ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান ও সিনাগগে হামলা পরস্পর সম্পর্কিত। এই অভিযান জেনিনে দখলদারদের পরিচালিত অপরাধের প্রতিক্রিয়া এবং দখলদারদের অপরাধমূলক তৎপরতার একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। সিনাগগে হামলার খবর গাজায় ছড়িয়ে পড়ার পর রাস্তায় রাস্তায় স্বতঃস্ফূর্ত সমাবেশ ও উদযাপনমূলক গুলিবর্ষণের হিড়িক দেখা যায়।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম বলেছে, হামলাকারী বন্দুকধারী পূর্ব জেরুজালেমের বাসিন্দা এবং তিনি একজন ফিলিস্তিনি; কিন্তু ইসরায়েলি কর্র্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করেনি।

একদিন আগে বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়। কয়েক বছরের মধ্যে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো সবচেয়ে প্রাণঘাতী অভিযান ছিল এটি। এর পরদিন সিনাগগে এই হামলার ঘটনায় পশ্চিম তীরে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত বড় ধরনের সহিংসতায় মোড় নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।