কিৎসক ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানসমূহের তদারকির দায়িত্ব ডিসির ওপর হস্তান্তর করার যে প্রস্তাব স্বাস্থ্যমন্ত্রী দিয়েছেন তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। গতকাল বুধবার দুপুরে খুলনার বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে চিকিৎসক নেতারা অবিলম্বে ওই ঘোষণা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা। গত ২৪ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকির দায়িত্ব ডিসিদের ওপর দেওয়ার ঘোষণা দেন। তার প্রতিবাদে গতকাল সম্মেলন করে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনা শাখা। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রীর প্রস্তাব প্রত্যাহার করে প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি ও ওষুধ সংকট নিরসনের দাবি জানান চিকিৎসকরা। এছাড়া চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানসমূহের নিরাপত্তা ও আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসনের দাবি জানান তারা।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএমএ খুলনা শাখার সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ডিসি সম্মেলনে পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান তদারকির দায়িত্ব ডিসিদের ওপর অর্পণের ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা এই প্রস্তাবের প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা করছি। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানসমূহ তদারকির জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, জেলায় সিভিল সার্জন, বিভাগীয় পর্যায়ে পরিচালক এবং সবার ওপরে আছেন মহাপরিচালক ও তার দপ্তরের পরিচালকরা। উপযুক্ত ব্যক্তি থাকা সত্ত্বেও অপেশাদার, ঔপনিবেশিক ভাবধারার আমলা দ্বারা আরও অতিরিক্ত তদারকি করা হলে দ্বৈত তদারকির ফলে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। আমরা মনে করি এটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আমলাতন্ত্রের পূর্বনির্ধারিত দুরভিসন্ধিমূলক ষড়যন্ত্রের অংশবিশেষ।
তিনি বলেন, আমাদের বিশ্বাস স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে একটি কুচক্রী মহল ভুল বুঝিয়ে তৃণমূলে প্রশাসনিক ক্যাডার ও চিকিৎসকদের মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত করেছে। আমরা সুস্পষ্ট করে বলতে চাই চিকিৎসদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করা হলে চিকিৎসকরা তা মেনে নেবেন না এবং যেকোনো মূল্যে তা প্রতিহত করবেন। এতে অমানবিক, নির্মম ও নিষ্ঠুর পরিস্থিতির অবতারণা হবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তা ভালোভাবে জানেন।
সুষ্ঠু চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার স্বার্থে সংবাদ সম্মেলনে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন চিকিৎসকরা। দাবিগুলো হলো স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠান তদারকির দায়িত্ব ডিসিদের ওপর হস্তান্তরের যে নির্দেশ দিয়েছেন, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে; রোগীদের উপযুক্ত চিকিৎসার স্বার্থে প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি ও ওষুধের সংকট নিরসন করতে হবে; পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা ও আন্তঃক্যাডার বৈষম্য রোধ করতে হবে; চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে; চিকিৎসা দিতে গিয়ে কোনো মৃত্যু ঘটলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাষ্ট্রের কাছে দায়মুক্তি ভোগ করার যে আইন আছে, তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
অন্য দাবিগুলো হলো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রয়োজনের তাগিদে চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষা সহজ ও সুগম করতে হবে; সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসাক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা অর্জনে আমলাদের সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে; পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ট্রেইনি চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক হাসপাতালে থাকতে হয়, তাদের আবাসনব্যবস্থা ও অতিরিক্ত সময়ের জন্য ভাতা দিতে হবে; ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন, তাদের আবাসনের ব্যবস্থা ও নবম গ্রেডের সমপরিমাণ সুবিধা দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএমএ খুলনার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী নেওয়াজ, সহসভাপতি এ টি এম মঞ্জুর মোর্শেদ, মোল্লা হারুন অর রশিদ ও শামসুল আহসান, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।