পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। গত সোমবারের এ ঘটনায় চার দিন অতিবাহিত হলেও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গত মঙ্গলবার ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক স্কুলে গিয়ে শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানায়। ওইসময় স্কুলের অন্য শিক্ষার্থীরাও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্কুল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি স্কুল ছুটি দিয়ে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানায়, নবম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী গত সোমবার সকালে স্কুলের পিটিতে অংশ নেয়। এসময় শিক্ষক আতিকুর রহমান তুচ্ছ ঘটনায় তাকে পেছন থেকে দুটি লাথি মারে। এ ঘটনায় সেখানে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হতভম্ব হয়ে পড়ে। এরপর ওই শিক্ষার্থী বাসায় ফিরে তার বাবা-মাকে ঘটনা জানালে তারা প্রধান শিক্ষকের কাছে মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ দেন। পরে খবরটি দ্রুত শহরে ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্কুলের শিক্ষকরা ওই শিক্ষার্থীর বাসায় গিয়ে সম্মিলিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক শিক্ষার্থী জানান, ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক আতিকুর রহমান শিক্ষার্থীদের তার কাছে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করেন। না পড়লে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নানারকম দুর্ব্যবহার করেন। প্রাইভেট না পড়ায় লাঞ্ছিত ওই শিক্ষার্থীর প্রতিও তিনি রুষ্ট ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক আতিকুর রহমানের মুঠোফোনে অসংখ্যবার কল করলেও তিনি ধরেননি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শাহ মোহাম্মদ জাকির হোসাইন বলেন, ‘গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আমরা সকল শিক্ষক ওই ছাত্রীর বাসায় গিয়ে তার বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বিষয়টির সমঝোতা করেছি।’