কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তা বিএনপির

ধাপে ধাপে জোরদার কর্মসূচিতে যেতে চায় বিএনপি। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, সরকারের পদত্যাগসহ চলমান ১০ দফা দাবির আন্দোলনের পক্ষে জনমত গঠনে সারা দেশে কর্মসূচি পালন করছে দলটি। তাদের এই আন্দোলনের সঙ্গে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও যুগপৎ আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে। আজ শনিবার সারা দেশে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ কর্মসূচি রয়েছে। ধারণ করা হচ্ছে এই সমাবেশ থেকে ‘চলো চলো ঢাকা চলো’, মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’র মতো কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে। ইতিমধ্যে সমাবেশ সফল ও পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণে সরকারবিরোধী সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলটির লিয়াজোঁ কমিটির নেতারা।

কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ধাপে ধাপে জোরদার কর্মসূচি আসবে। ১০ দফা দাবির পক্ষে জনমত গঠনে সারা দেশে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। চলো চলো ঢাকা চলো, মার্চ ফর ডেমোক্রেসিসহ বিভিন্ন কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি ব্যাহত করতে আওয়ামী লীগ একই দিন কর্মসূচি ঘোষণা করে আমাদের উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা ইতিমধ্যে এভাবে কর্মসূচি না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। এ ছাড়া ঐক্যে ফাটল ও আন্দোলন কর্মসূচি বানচালে সরকারের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখতে বলা হয়েছে। ভুল-বোঝাবুঝি এড়াতে আমরা নিজেদের মধ্যে বেশি বেশি বৈঠক করব।’

ধারাবাহিক বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি গঠিত লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লা বুলু গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যুগপৎ কর্মসূচি সফল ও পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণে আমরা সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পর্যায়ক্রমে বৈঠক করেছি। বৈঠকে সবার কাছ থেকে কর্মসূচির ধরন সম্পর্কে জানতে চেয়েছি। এরই আলোকে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি চূড়ান্ত করব।’

বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেওয়াসহ আমাদের ১৪ দফা ও বিএনপির ১০ দফা দাবি আদায়ে আমরা যখন ঐক্যবদ্ধভাবে যুগপৎ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি, তখন সরকারের পক্ষ থেকে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে আমাদের ঐক্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা চলছে। নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। এটি কাটিয়ে উঠতে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নিতে আমরা বৈঠক করছি। এটি অব্যাহত থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘যুগপৎ কর্মসূচির বাইরে বিএনপি রাজধানী ঢাকায় চারটি পদযাত্রা করেছে। আমরা ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকায় পথসভা করব। এভাবে আমরা পৃথক কর্মসূচি পালন করে জনসম্পৃক্ততা বাড়াব।’

বিএনপির দপ্তর সংশ্লিষ্ট নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, শনিবারের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে বিএনপি মহাসচিবসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ও নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক করে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইতিমধ্যে সাংগঠনিক ১০টি বিভাগে সমাবেশ সমন্বয় করতে জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। তারা বিভাগীয় সাংগঠনিক, সহসাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে আলোচনা করে জেলা নেতাদের দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। জেলা নেতারা নিজ নিজ জেলার ইউনিটগুলোর নেতাদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়াতে তাদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করছেন। 

ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিভাগের জেলাগুলোর নেতাদের নিয়ে আমরা জনগণের কাছে যাচ্ছি। ১০ দফাসংবলিত লিফলেট বিতরণ করছি। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছি। আশা করছি, ময়মনসিংহ বিভাগের সমাবেশ হবে সর্বকালের সর্ববৃহৎ সমাবেশ।’

রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দায়িত্ব পেয়ে আমরা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কর্ম পরিকল্পনা ঠিক করেছি। সমাবেশ সফল করতে জেলা নেতারা ১০ দফা দাবিসংবলিত লিফলেট সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। চালাচ্ছেন গণসংযোগ।’

এদিকে বৃহস্পতিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। পরে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদের নেতৃত্বে দলটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি নেতারা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, বরকত উল্লা বুলু ও সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বৈঠকে অংশ নেন। এর আগে গণতন্ত্র মঞ্চ, জাতীয়তাবাদী জোটের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি নেতারা।