প্রথম বিদেশ সফরে আজ ঢাকা আসছেন মালয়েশিয়ার নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুসন ইসমাইল। মূলত তার আগ্রহ থেকেই এ সফরের প্রস্তুতি শেষ করেছে বাংলাদেশ। কম সময়ের ব্যবধানে এ সফরের প্রস্তুতি ও দ্বিপক্ষীয় সব অয়োজন চূড়ান্ত করতে এরই মধ্যে ঢাকায় এসেছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর চলমান শ্রমবাজার সংকট সমাধানসহ দেশটিতে অবৈধভাবে থাকা বাংলাদেশিদের বৈধতা পাওয়ার বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে সরকারের সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, মালয়েশিয়ার মন্ত্রীর সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হবে। এসব বৈঠকে অবৈধ বাংলাদেশিদের বৈধতার পাশাপাশি চলমান সংকট নিরসনকে গুরুত্ব দেবেন তারা। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া সব এজেন্সির জন্য উন্মুক্তকরণ, সিন্ডিকেটের কবল থেকে শ্রমবাজরকে মুক্ত রাখা ও কর্মীদের স্বার্থ সংরক্ষণে জোর দেওয়া হবে। এ সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও গতি সঞ্চারে সহায়ক হবে।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্র বলছে, মালয়েশিয়ায় অবৈধ কর্মীদের ২৭ জানুয়ারি থেকে বৈধতা দেওয়া আবারও শুরু হয়েছে, যা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। যার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশনে অভিযোগ আছে, শ্রমিক ও ক্রিমিনাল রেকর্ড আছে এমন অভিবাসী ছাড়া যে কেউ বৈধ হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। কর্মীর বয়স ১৮ থেকে ৪৯ বছর হতে হবে। সর্বনিম্ন আবেদন ফি ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত; যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৮ হাজার টাকা। এর সঙ্গে মেডিকেল ও অন্যান্য ফি মিলিয়ে খরচ হবে ৩ হাজার রিঙ্গিতের ওপর।
তারা জানায়, মালয়েশিয়া ১৫টি দেশের কথা উল্লেখ করলেও বাংলাদেশকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি এগিয়ে রাখছে। এই তালিকায় বরাবরই ওপরের দিকে থাকে বাংলাদেশ। বৈধ হলে কর্মীরা উৎপাদন, নির্মাণ, খনি ও খনন, নিরাপত্তা রক্ষী, সেবা, কৃষি, বাগান এবং গৃহকর্মী হিসেবে সেখানে কাজ করতে পারবেন। এ ছাড়া চাইলে দেশেও ফিরে আসার সুযোগ পাবেন অবৈধরা। ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৪ লাখ ৮৪ হাজার ৬৭৭ জন বিদেশি কর্মীকে অস্থায়ী কাজের ভিজিট পাস দিয়েছে তারা, যার মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৪৬ হাজার ২২৯ জন।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে বিশেষ করে মধ্যস্বত্বভোগী চক্রের বাধা দূর হওয়া নিয়ে আশাবাদী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় আমরা যে কর্মী পাঠাই, এগুলোতে অনেক সময় উল্টো-পাল্টা কাজ হয়। আশা করি, মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরে সেগুলো দূর হবে। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনেক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এসব বিষয় সুরাহা করার জন্য মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসছেন। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে কর্মীরা হয়তো স্বল্প খরচেই মালয়েশিয়া যেতে পারবেন।’
সাইফুদ্দিন নাসুসন ইসমাইলের এ সফরকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন। দেশটিতে নিযুক্ত হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ২৫ জানুয়ারি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকেই মূলত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ১০ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে তার সফরটি চূড়ান্ত করা হয়। ওই বৈঠকে হাইকমিশনার মালয়েশিয়ায় বসবাসরত অনথিভুক্ত বাংলাদেশিদের রিক্যালিব্রেশনের আওতায় সহজ প্রক্রিয়ায় বৈধ করার জন্য দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। তার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন।