নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় পুরান ছয়ানী থেকে রামেশ্বরপুর পর্যন্ত ১ হাজার ৬০০ মিটার সড়ক সংস্কারকাজে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে গতকাল শনিবার এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাফিজুল হক অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে গতকাল ঠিকদারের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় এমন অনিয়ম করে যাচ্ছে ঠিকাদার। অনিয়মের অভিযোগ করায় উল্টো চাঁদাবাজি মামলার হুমকি পেয়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। নিম্নমানের ম্যাকাডম ঢাকতে পানি ঢালছে শ্রমিকরা। স্থানীয়রা শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের পুরাতন ছয়ানী এলাকায় বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সেøাগান দেন।
এলজিইডির বেগমগঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এলজিইডির অধীনে ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার পুরাতন ছয়ানী থেকে রামেশ্বপুর পর্যন্ত প্রায় ১৬০০ মিটার নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় নোমান কনস্ট্রাকশন।
বিক্ষোভকারী আবুল কালাম আজাদ বলেন, সড়কটি মেরামত শুরু হওয়ায় আমরা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সামগ্রীর মান খুব খারাপ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম বলেন, গত ১৫ দিন ধরে রাস্তার কাজ চলছে। শুরু থেকেই ব্যাপক অনিয়মের মধ্য দিয়ে কাজ করছেন ঠিকাদার। আমরা ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানিয়েছি, সাব ঠিকাদারকেও জানিয়েছি। এজন্য সাব ঠিকাদার আমাকে চাঁদাবাজ বলেছেন। আমরা চাঁদাবাজ নই বরং কাজের মান ভালো করার জন্য অনুরোধ করেছি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাব ঠিকাদার আমেনা বেগমের মুঠোফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাফিজুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে আজ (গতকাল শনিবার) দুপুরে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ইট সড়কের পাশে এনে ভাঙতে বলেছি। ঠিকাদার যদি সংশোধন না করে তাহলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।