মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া পরিবর্তনের আভাস

দেশের বড় শ্রমবাজার মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুসন ইসমাইল। কর্মীদের স্বার্থে প্রয়োজনে সমঝোতা স্মারক পরিবর্তন, অভিবাসন ব্যয় কমানোসহ আরও নতুন সংযোজনের কথা এসেছে। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চলতি মাসেই ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে বসবে ঢাকা-কুয়ালালামপুর।

গতকাল রবিবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদের সঙ্গে তার দপ্তরে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। প্রথম বিদেশ সফরে গতকাল ঢাকা এসেছেন মালয়েশিয়ার নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুসন ইসমাইল। এ সফরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে গতকাল দুপুরেই মালয়েশিয়ার উদ্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন তিনি।

সাইফুদ্দিন নাসুসন ইসমাইল বলেন, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় যাওয়া কর্মীদের কম খরচ ও প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করা হবে। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সম্পন্ন হওয়া আগের চুক্তি রিভিউ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে সেটি পরিবর্তন করা হবে।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন বিদেশি কর্মী কাজ করছেন। ১৫টি দেশ থেকে যাওয়া এসব বিদেশি কর্মীদের মধ্যে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ কর্মী রয়েছে এবং যথাক্রমে পাকিস্তানের কর্মীরা রয়েছেন। তিনি বলেন, বৈঠকে দুটো বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কীভাবে মাইগ্রেশন খরচ কমানো যায় এবং মালয়েশিয়ায় চলমান অবৈধ কর্মীদের বৈধতার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া অবৈধ কর্মীদের বৈধকরণ প্রক্রিয়া এরই মধ্যে নিবন্ধিত কর্মীদের ৫৫ ভাগ শুধু বাংলাদেশিরাই রয়েছেন। এটা অত্যন্ত ভালো দিক।

এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, মালয়েশিয়ার বৈঠকে আমাদের কোনো এজেন্ডা ছিল না। তবে বৈঠকে কর্মীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশকিছু আলোচনা হয়েছে। যেহেতু মালয়েশিয়ায় এখন নতুন সরকার, তাই আগামীতে আরও সহজ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ মাসের মধ্যেই উভয় দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক হয়েছে। দ্রুত সময়েই ভালো কিছুর প্রত্যাশা করছি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বৈঠকের পর বলেন, অনেক কর্মীকেই বেশি টাকা দিয়ে মালয়েশিয়ায় যেতে হয়েছে, এই বিষয়টি মন্ত্রীকে বলেছি। ড. মোমেন বলেন, আমরা প্রায় ৬৫ হাজার লোক পাঠিয়েছি। আরও ১ লাখ ৩৫ হাজার লোক যাবে, এটিও চূড়ান্ত হয়ে গেছে। তবে অনেকেরই বেশি টাকা দিয়ে যেতে হয়েছে, কারণ একটা সমস্যা আছে। মালয়েশিয়া চায় এই সমস্যা দূর করতে। সে জন্যই মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুসন ইসমাইল বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। তারা এ নিয়ে খুব আন্তরিক।’

মালয়েশিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আন্তরিক বৈঠক হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে সিকিউরিটি গার্ড (নিরাপত্তাকর্মী) নিতে আগ্রহী মালয়েশিয়া। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুসন ইসমাইল এমন আগ্রহ দেখিয়েছেন। বৈঠকে আসাদুজ্জামান খান মালয়েশিয়ার বিভিন্ন স্থাপনায় নিরাপত্তার কাজে বাংলাদেশ থেকে পেশাদার ও প্রশিক্ষিত আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের নিয়োগ দেওয়ার অনুরোধ জানান।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসময় বলেছেন, তাদের দেশেও রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে এবং তাদের মানবিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়া জোরালো ভূমিকা পালন করবে।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্র বলছে, মালয়েশিয়ায় অবৈধ শ্রমিকদের ২৭ জানুয়ারি থেকে বৈধতা দেওয়া আবারও শুরু হয়েছে, যা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। মালয়েশিয়া ১৫টি দেশের কথা উল্লেখ করলেও বাংলাদেশকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি এগিয়ে রাখছে। এই তালিকায় বরাবরই শীর্ষের দিকে থাকে বাংলাদেশ।