গ্রিন ফ্যাক্টরি বা পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানার তালিকায় বাংলাদেশ বরাবরই শীর্ষে। গতকাল সবুজ কারখানার তালিকায় দেশের আরও একটি পোশাক কারখানা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এতে করে বাংলাদেশে সবুজ কারখানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৭টিতে। এর মধ্যে দিয়ে বিশ্বের সেরা ১০০টি সবুজ শিল্প কারখানা হিসেবে সনদপ্রাপ্তদের মধ্যে ৫০টি বাংলাদেশে অবস্থিত বলে জানিয়েছে পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ।
সবশেষ এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে কেডিএস আইডিআর লিমিটেড। চট্টগ্রামের কালুরঘাট শিল্প এলাকায় অবস্থিত কেডিএস আইডিআর প্লাটিনাম সনদ পেয়েছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি ৮৪ নম্বর পেয়ে লিড প্লাটিনাম সনদ পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিজিএমইএ বলছে, ২০১৮ সালে দেশে পরিবেশবান্ধব কারখানার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন বা এলইইডি প্লাটিনাম কারখানা ছিল ১৩টি। গতকাল পর্যন্ত এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে আরও ৫০টি কারখানা। এ হিসেবে দেশে এখন লিড প্লাটিনাম কারখানা রয়েছে ৬৩টি। ২০১২ সালে ঈশ্বরদী এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনের কোম্পানি ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও প্রথম লিড প্লাটিনাম সনদ পায়।
এ বিষয়ে বিজিএমইএ’র পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বিশ্বের ১০০টি সবুজ শিল্প প্রকল্পের ৫০ শতাংশই বাংলাদেশের। এটি অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের। আমি আমাদের শ্রমিক ভাই বোন, ব্যাংক থেকে শুরু করে সব শিল্প মালিককে অভিনন্দন জানাই।
২০১১ সালে বাংলাদেশে সবুজ কারখানার সংখ্যা ছিল ২টি। পরবর্তী ১১ বছরে সবুজ কারখানার সংখ্যা ১৮৭টিতে উন্নীত হলো। প্লাটিনামের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব হওয়ার প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী রয়েছে আরও তিনটি ভাগ। এগুলো হলোথ গোল্ড, সিলভার ও সার্টিফায়েড। গতকাল পর্যন্ত বাংলাদেশে এলইডি গোল্ড কারখানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১০টিতে। এর বাইরে সিলভার ১০টি ও শুধু সার্টিফায়েড স্বীকৃত কারখানা চারটি। তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের পাশাপাশি শিপইয়ার্ড, জুতা ও ইলেকট্রনিক পণ্য খাতে আছে পরিবেশবান্ধব কারখানা। বাণিজ্যিক ভবনও হচ্ছে পরিবেশবান্ধব, তবে সংখ্যায় কম।
বিশ্বের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সনদ দিয়ে থাকে। তাদের মধ্যে অন্যতম যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি)। তারা ‘লিড’ নামে পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সনদ দিয়ে থাকে। লিডের পূর্ণাঙ্গ রূপ লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন। সনদটি পেতে একটি প্রকল্পকে ইউএসজিবিসির তত্ত্বাবধানে নির্মাণ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে সর্বোচ্চ মান রক্ষা করতে হয়। এ জন্য নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা পুরনো ভবন সংস্কার করে আবেদন করা যায়।