সারা দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে এবার শান্তি-সমাবেশ করার পরিকল্পনা করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এ বিষয়ক কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত থাকবেন। দলটির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ১১ ফেব্রুয়ারির ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মসূচি। জেলা ও উপজেলা সদরে শান্তি-সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় নেতারা। আর ইউনিয়নে দলের স্থানীয় নেতারা সমাবেশ আয়োজনে নেতৃত্ব দেবেন।
এরই মধ্যে বিএনপি অভিযোগ করেছে যে, ক্ষমতাসীন দল উসকানি দিতেই পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে। ইউনিয়ন পর্যায়েও তাদের পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণার বিপরীতে আওয়ামী লীগ শান্তি-সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে।
তবে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে তাদের কর্মসূচি কোনো পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নয়। বরং তৃণমূলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রচার ও বিএনপি সরকারের সময়কার চিত্র তুলে ধরতে এ কর্মসূচি। এ ছাড়া বিগত দিনে দলটির জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতির ব্যাপারে জনগণকে সতর্ক করাও তাদের লক্ষ্য।
গতকাল মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, ‘ইউনিয়ন পর্যায়ে যে কর্মসূচি তা পাল্টাপাল্টি কোনো কর্মসূচি নয়। জনগণের জানমাল রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। আর তাই নির্বাচনের আগে আমাদের দলীয় কর্মসূচি থাকবে।’
আগের দিন সোমবার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময়ে দেশের মানুষ কী অবস্থায় ছিল তা সমাবেশগুলোতে তুলে ধরব আমরা। দলকে ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি নির্বাচনকে সামনে রেখে কেউ যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, জনগণের জানমালের ক্ষতি করতে না পারে তার ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানাব। তিনি বলেন, ১১ ফেব্রুয়ারি প্রতিটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের শান্তি-সমাবেশ হবে। সমাবেশ হবে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের পক্ষে, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে।
একইদিন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, শান্তি-সমাবেশের মাধ্যমে তৃণমূল মানুষের কাছে শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরা হবে। বিএনপির শাসনামল ও আওয়ামী লীগের শাসনামলের তুলনামূলক চিত্র একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে উপস্থাপন করতেই ইউনিয়ন পর্যায়ে এ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
একইদিন অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি সরকার পতনের আন্দোলনে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে দেশের সব ইউনিয়নে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করে বিএনপি। একইদিন আওয়ামী লীগও বিভাগীয় পর্যায়ে শান্তি-সমাবেশ করে। ওইদিন কামরাঙ্গীরচরে অনুষ্ঠিত শান্তি-সমাবেশে বিএনপির পাল্টা কোনো কর্মসূচি ক্ষমতাসীনরা দিচ্ছে না বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকবেন বলে জানান তিনি। ৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপি তাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করলেও আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কর্মসূচি এখনো ঘোষণা করেনি। তবে জেলাপর্যায়ে ১১ ফেব্রুয়ারি শান্তি-সমাবেশ করতে দলীয় নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে বিএনপি ঢাকায় আবার দুদিনের পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে শান্তি-সমাবেশ করবে সব ওয়ার্ড। ওইদিন কয়েকটি সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। আওয়ামী লীগের ৭৬টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৪০টিতে কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকার নির্দেশ পেয়েছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের নিজ নিজ জেলায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে সভাপতিম-লীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক ও শিক্ষা সম্পাদক শামসুন নাহার টাঙ্গাইলে, সভাপতিম-লীর সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান গোপালগঞ্জে, শাজাহান খান মাদারীপুরে, আবদুর রহমান ফরিদপুরে, এএইচএম খায়রুজ্জামান রাজশাহী জেলায়, সিমিন হোসেন রিমি গাজীপুর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ চট্টগ্রাম উত্তরে, দীপু মনি চাঁদপুরে, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন জয়পুরহাটে, এসএম কামাল হোসেন খুলনায়, আফজাল হোসেন পটুয়াখালীতে, অর্থ সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান বান্দরবানে, কৃষি সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী লক্ষ্মীপুরে এবং বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন রাজবাড়ীর শান্তি-সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন। আর যেসব জেলায় কেন্দ্রীয় নেতারা যাবেন না সেখানে জেলার নেতাদের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যেদের অংশগ্রহণে ইউপি পর্যায়ে শান্তি-সমাবেশ করতে বলা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, কোনো জেলা সদরে শান্তি-সমাবেশ হবে না। ইউনিয়নে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলার নেতারা উপস্থিত থাকবেন। কেন্দ্রীয় নেতারা শুধু একটি ইউনিয়ন পর্যায়ে সমাবেশে যোগ দেবেন। জেলা ও উপজেলা নেতাদের আলাদা আলাদা ইউনিয়নের দায়িত্ব দেওয়া হবে।