ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বসত ঘর থেকে মাত্র ৭-৮ ফুট দূরে রেল লাইন বসানো হয়েছে। রেলওয়ের ভূমির সীমানা খুঁটির পাশেই ব্যক্তি মালিকানার ১০-১৫টি আধা-পাকা বসতবাড়ি। এসব বাড়িতে শতাধিক মানুষ বসবাস করে। বসতবাড়ি ঘেঁষে রেল লাইন বসানোর কারণে এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এছাড়া রেলওয়ের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ভারী যন্ত্রপাতির ভাইব্রেশনের ঝাঁকুনি লাগছে ব্যক্তিমালিকানা বিল্ডিংয়ে। বিল্ডিংয়ের কয়েকটি স্থানে ফাটলও দেখা দিয়েছে। এছাড়া ভারী যন্ত্রপাতির ব্যবহার জনিত ঝাঁকুনির কারণে স্থাপনা ভেঙে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। তাদের এসব উদ্বেগের কথা জানিয়ে লাকসাম-আখাউড়া ডাবল রেল লাইন প্রকল্প পরিচালক বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
গত ৪ ফ্রেব্রুয়ারি ডাকযোগের আবেদনটি পাঠানো হয়েছে। উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ বোরহান উদ্দিনসহ ১১ জন আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন। আবেদনের একটি কপি, আখাউড়া-লাকসাম ডাবল রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ওয়ার্কস) মো. আব্দুল্লাহর কাছে দেওয়া হয়েছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লাকসাম-আখাউড়া ডাবল রেল লাইন নির্মাণ এবং আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের উন্নয়ন মূলক কাজ চলছে। স্টেশনের দক্ষিণে পৌর শহরের চন্দনসার এবং দেবগ্রাম মৌজায় ভূমি অধিগ্রহণ করে নতুন নতুন রেল লাইন স্থাপনের কাজ চলছে। রেলওয়ে ভূমির পশ্চিম সীমানায় বসত বাড়ি ঘেঁষে রেল লাইন বসানো হয়েছে। রেল লাইনের পাশেই বেশ কিছু আধা পাকা বাড়ি ঘর ও একটি মসজিদ রয়েছে। এসব বাড়ি ঘরে নারী-শিশুসহ বহু মানুষ বসবাস করে।
এছাড়া পূর্ব দিকেও রেল লাইনের পাশে পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয়নি। ট্রেন চলাচলকালে শব্দ দূষণের পাশাপাশি দূর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এতে প্রাণহানিসহ মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাই জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নিরাপদ দূরত্বে রেল লাইন বসানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রেল লাইনের পাশেই লেখক মোহাম্মদ আলীর বাসা। তিনি জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে তার পৈতৃক বাড়িটি অধিগ্রহণ করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পরে তিনি পাশেই জায়গা কিনে নতুন করে বিল্ডিং নির্মাণ করেছেন। রেলের ভারি যন্ত্রপাতির ঝাঁকুনিতে ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শেখ বোরহান উদ্দিন বলেন, যেভাবে বাড়িঘর ঘেঁষে রেল লাইন বসানো হয়েছে কোন কারণে যদি রেল দূর্ঘটনা ঘটে তাহলে উদ্ধার কাজ করার মত রেলের জায়গা নাই। জনগণের সার্বিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে রেল লাইন স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি। আমরা আগেও জায়গা দিয়েছি প্রয়োজনে আরও দিব।
এ ব্যাপারে উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ওয়ার্কস) মো. আব্দুল্লাহ বলেন, এলাকাবাসীর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। ওই লাইনটি দিয়ে ট্রেন চলাচল করবে না। শুধু ট্রেন সানটিং করবে। তাই দুর্ঘটনার আশঙ্কা নাই। রেলের পাশে পর্যাপ্ত জায়গা না রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রজেক্টের কস্ট (খরচ) লিমিটের মধ্যে রাখার জন্য কোনো কোনো জায়গায় সীমানায় কাজ করা হয়েছে। এটা ডিজাইন পেজে যারা কাজ করেছে তাদের বিষয়।