সাগর-রুনি হত্যা

‘প্রতিবেদন দ্রুত দিতে র‌্যাবকে নির্দেশ দেওয়া হবে’

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন দ্রুত দিতে র‌্যাবকে নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দ্রুত সাগর-রুনি হত্যার বিচারের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ)  নেতারা। পরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ডিআরইউর স্মারকলিপি আমি র‌্যাবের ডিজিকে এখনই পাঠিয়ে দিচ্ছি। তাড়াতাড়ি একটা কিছু যেন তারা জানান, সেই নির্দেশনা তাদের দেওয়া হবে।’

এদিকে মন্ত্রীকে দেওয়া ডিআরইউর স্মারকলিপিতে বলা হয়, ক্ষোভ ও দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সদস্য মাছরাঙা টেলিভিশনের সাবেক বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনি হত্যাকা-ের এক দশক পেরিয়ে গেলেও হত্যাকারীদের এখনো শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়নি। আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ে সাগর-রুনি হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত খুনিদের মুখোশ উন্মোচনের জন্য ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির পক্ষ থেকে জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় আমরা আবারও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। এ সময় ডিআরইউর সভাপতি মুরসালিন নোমানী, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, দপ্তর সম্পাদক কাওসার আজম ও কার্যনির্বাহী সদস্য ইসমাইল হোসাইন রাসেল উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচির নামে রাস্তায় বসে পড়লে ব্যবস্থা : আন্দোলনের নামে কেউ যদি রাস্তায় বসে পড়ে তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, ‘বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল। তারা নির্বাচনের আগে অনেক কথাই বলবে, এটাই স্বাভাবিক। পাশাপাশি অন্য দলও আছে, তারাও রাজনৈতিক কর্মসূচি দিতে পারে। এতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।’

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডির ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ও ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন’ প্রশিক্ষণ  কোর্সের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে যদি জনগণের নিরাপত্তার কথা বলেন, তাহলে আমি আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমে আহ্বান রাখব, তারা যেন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করেন। রাস্তাঘাট বন্ধ না করেন। নগরবাসীর চলাচল বিঘি্নত না করেন।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় মতিঝিল থানায় করা মামলায় চার্জশিট জমা দেওয়া হয়নি এখনো। কবে তা জমা দেওয়া হতে পারে, এ প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। তবে ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই  দেশের তদন্ত রিপোর্ট এখনো পায়নি তদন্তকারী সংস্থা। এ জন্য মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে অপেক্ষা করছে তারা। ওই দুই দেশের অপিনিয়ন এলেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

গত বছর ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৭৫ মাদক চোরাকারবারি আইনের আওতায় এসেছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সব আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সারা দেশে ২০২২ সালে ১ লাখ ৩২১টি মামলা এবং ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৭৫ জন মাদক চোরাকারবারিকে আইনের আওতায় এনেছে। এ সময়ে ৪ কোটি ৫৮ লাখ ৬৮ হাজার ৫৬৯ পিস ইয়াবা, ১ লাখ ১৫ হাজার ৩৬৭ কেজি গাঁজা, ৭ লাখ ৬ হাজার ৬১ বোতল ফেনসিডিলসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। গতকাল জাতীয় সংসদে মোরশেদ আলীর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।