ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর অঙ্গীকার ও বর্তমান বাস্তবতা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৯ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং আরও আটটি ইউরোপীয় দেশসহ ১২ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য একে অপরকে রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে উত্তর আটলান্টিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। এটি মূলত সামরিক সহযোগিতার জোট। পরে কয়েক দশক ধরে জোটটি বড় হতে থাকে। আজকে ন্যাটোর সদস্য সংখ্যা ৩০। ন্যাটো হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক সংগঠন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসনের হাত থেকে পশ্চিম বার্লিন এবং ইউরোপের নিরাপত্তা বাস্তবায়ন করা। ন্যাটো একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি, যে চুক্তির আওতায় জোটভুক্ত দেশগুলো পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা প্রদানে অঙ্গীকারবদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রে নাইন-ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার পর ন্যাটো তাদের রক্ষায় মাঠে নামে। এর প্রত্যেকটি সদস্যরাষ্ট্র তাদের সামরিক বাহিনীকে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখতে বদ্ধপরিকর। বর্তমানে ন্যাটোর সদস্য দেশের সংখ্যা ৩০। সেসব হচ্ছেআলবেনিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, কানাডা, ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, ইতালি, লাটভিয়া, লিথুনিয়া, লুক্সেমবার্গ, মন্টিনেগ্রো, নেদারল্যান্ডস, উত্তর মেসিডোনিয়া, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ন্যাটো প্রতিষ্ঠিত হয় ৪ এপ্রিল, ১৯৪৯ তারিখ। ন্যাটো প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসনের হাত থেকে পশ্চিম বার্লিন এবং ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ন্যাটো হলো এমন একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি, যে চুক্তির আওতায় জোটভুক্ত দেশগুলো পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা প্রদানে অঙ্গীকারবদ্ধ।

যা হোক, মূল কথায় আসা যাক, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের রাজনীতিকরা তাদের নানা মাত্রার বীরত্ব প্রকাশ করতে গিয়ে নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা ন্যাটোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। কিন্তু ঢালই যদি ভঙ্গুর হয় কিংবা যে উপকরণ দিয়ে ঢাল তৈরি হয়েছে, তাতে যদি ত্রুটি থাকে, তখন কী হয়? পশ্চিমা দেশগুলো সেটা কি বুঝতে পারছে? এ মাসে মাদ্রিদে হতে যাওয়া ন্যাটো সম্মেলনটি শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনমুখী বলে প্রচার করা হচ্ছে। রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ৩০ দেশের এ জোট ‘মুক্তবিশ্ব’ রক্ষায় কীভাবে একত্র হলো, তা নিয়ে সেখানে আত্ম-অভিনন্দনের বন্যাও বয়ে যেতে পারে। কিন্তু মূল প্রশ্নটাই এড়িয়ে যাওয়া হবে। গত মার্চ মাসে পোল্যান্ডে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ন্যাটোর কার্যত নেতা জো বাইডেন বক্তব্য দিতে গিয়ে জোটটির নেতারা কী ধরনের কথা বলবেন, আর কী ধরনের পদক্ষেপ নেবেন, তার একটা মান ঠিক করে দিয়েছেন। বাইডেন তেজদীপ্ত শপথের সুরে বলেন, ‘ন্যাটোর প্রতি ইঞ্চি মাটি আমাদের সম্মিলিত শক্তির সবটা দিয়ে’ যুদ্ধের বাইরে রাখব। ওই বক্তব্যের কয়েক মাস পার হয়ে গেলেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো তৎপরতার ব্যাপারে উদাসীনতাই দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি আইসল্যান্ডে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেল ওয়ালেশকে বাইডেনের সুরে সুর মেলাতে দেখা গেল। ইউক্রেনের পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট লিথুনিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়ায় হামলা করতে পারেন বলে চাউর হয়েছে। ওয়ালেশ সতর্ক করে বলেন, পুতিন এই দেশ তিনটিকে ইউক্রেনের মতো ‘প্রকৃত’ দেশ বলে মনে করেন না। কিন্তু বাইডেনের মতো ওয়ালেশও ইউক্রেন যাতে স্বাধীন দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে টিকে থাকতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা হাজির করেননি। যখন অনেক মিত্র দেশ সামনে এগিয়ে আসছে,তখন ইউরোপে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা শীত নিন্দায় চলে যাচ্ছেন। তারা ন্যাটো জোটকে অবজ্ঞা ও উপেক্ষা করছেন। কিয়েভকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে গেলে মস্কোকে ক্রুদ্ধ করা হবেএমন যুক্তিতে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৌশলগত সার্বভৌমত্বের দিবাস্বপ্ন দেখা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁও কথার চেয়ে কাজে বেশি বিশ্বাসী। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজের কাজগুলো দ্বিধাগ্রস্ততা ও ঢিলেমির ধ্রুপদি দৃষ্টান্ত।

আর নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট ভিকতর ওরবান যেন ক্রিজের অন্য প্রান্তে সপাটে ব্যাট চালিয়ে যাচ্ছেন। আবার তুরস্কের সমস্যা সৃষ্টিকারী প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান নিজ উদ্যোগে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের সদস্যপদের বিরুদ্ধে যেভাবে পেছন থেকে ছুরি মেরেছেন, সেটাও ন্যাটো জোটের অনৈক্যের বড় এক দৃষ্টান্ত। ন্যাটোর গোবেচারা মহাসচিব স্টলটেনবার্গ সদস্য দেশগুলোর নানামুখী চাপ সামলাতে আর অনৈক্যের এই ফাটল মেরামত করতে গিয়ে রীতিমতো গলদঘর্ম। এদিকে পোল্যান্ড ও অন্য সম্মুখ সারির দেশগুলো কঠোরতম পদক্ষেপ চায়। রাশিয়ার সীমান্তে অতিরিক্ত সেনার সঙ্গে স্থায়ীভাবে ভারী সমরাস্ত্র ও যুদ্ধবিমানের মোতায়েন চায় তারা। তাদের এ ধরনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাটোর কর্মকর্তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বলিষ্ঠ ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বর্তমান বিশ্বে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে শোষণ-বঞ্চনার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে। কিন্তু তার সঙ্গে পশ্চিমা ডানপন্থি কিংবা উগ্র জাতীয়তাবাদী নেতা-নেত্রীদের দৃশ্যত কোনো বিরোধ নেই। সুচিন্তিতভাবে বিরোধ তৈরি করা হচ্ছে মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষ ও তাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতির বিরুদ্ধে। এতে পশ্চিমা উগ্র ডান কিংবা প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি মনে করে তাদের জনপ্রিয়তা অর্জন সহজতর হবে। বিশ্বব্যাপী, বিশেষ করে পশ্চিমা জগতে, বর্তমান প্রথাগত রাজনীতিকরা যখন অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন উগ্র ডানপন্থি কিংবা প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি কখনো ধর্মীয় বিষয়কে ইস্যু করে মাঠে নামছে বিভিন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে, আবার কখনো জাতিগোষ্ঠীগত বৈষম্যকে উসকে দেয় তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে। ইতালি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, সুইডেনসহ বিভিন্ন পশ্চিমা রাষ্ট্রে এ ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা নতুন নয়। যুক্তরাষ্ট্র কিংবা যুক্তরাজ্যেও যে এ ধারার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অবসান ঘটেছে, তাও নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাবাধীন রিপাবলিকান দলের এক বিশাল অংশের শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদ কিংবা যুক্তরাজ্যের উগ্র জাতীয়তাবাদী ন্যাশনাল ফ্রন্টের শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদ গণতন্ত্র ও মানবতাবাদের নাকের ডগায় বৃদ্ধাঙ্গুলি ঠেকিয়ে প্রকাশ্যেই চরম সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে যাচ্ছে। পশ্চিমা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোয় সাম্প্রদায়িকতা কিংবা ধর্মীয় বিরোধ সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ হলেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অজুহাতে তারা এমন সব ঘটনাকেও বরদাশত করে যাচ্ছে, যা অগণতান্ত্রিক এবং মানবাধিকারের বরখেলাপ। কারণ সেসব দেশে গণতন্ত্রের নামে সাম্প্রদায়িকতা কিংবা উগ্র জাতীয়তাবাদী ধ্যানধারণা প্রচার ও প্রসারের কোনো অবকাশ নেই। ধর্ম, বর্ণ ও জাতীয় কৃষ্টি-সংস্কৃতি-নির্বিশেষে সব মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ইতালি, ফিনল্যান্ড, সুইডেনসহ পশ্চিমা জগতে সেগুলো খাতায় লিপিবদ্ধ থাকলেও বাস্তবে খুঁজে পাওয়া যায় না। তাতে তারা নিজেরাই নিজেদের বিপদ ডেকে আনছে। সমাজে সৃষ্টি হচ্ছে নানা বৈষম্য, বিরোধ ও সংঘর্ষ। তা ছাড়া উগ্র জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও প্রতিক্রিয়াশীল তৎপরতার কারণে ভেঙে পড়ছে সাধারণ মানুষের প্রচলিত কিংবা প্রতিষ্ঠিত মূল্যবোধ। গণতন্ত্র, মানবাধিকার কিংবা ধর্মবিশ্বাস ও চর্চার ক্ষেত্রটি ক্রমে ক্রমে নড়বড়ে হয়ে পড়ছে। এতে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। চলতি বছর মে মাসে তুরস্কে জাতীয় সংসদ এবং প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন ঘোষণা করেছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম সেই নির্বাচনকে এ বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন বলে আখ্যায়িত করেছে। কারণ সেই নির্বাচন একদিকে যেমন প্রাজ্ঞ-প্রবীণ রাজনীতিক এরদোয়ানের ভাগ্য নির্ধারণ করবে, অন্যদিকে বর্তমান রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষ এবং এমনকি ন্যাটোর ভবিষ্যৎ অবস্থান ও কার্যক্রমকেও প্রভাবিত করবে বলে বিশ্ব গণমাধ্যমের সংবাদ বিশ্লেষকদের অভিমত।

অবস্থায় চলতি বছরের নভেম্বরে ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জি২০ শীর্ষ সম্মেলন। তাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত সভায় যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব নেওয়ার মতো বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষের পরিণতি এরই মধ্যে উপলব্ধি করেছে বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলো। বিশ্ব এখন এক অর্থনৈতিক মন্দার ব্যাপক গ্রাসে নিক্ষিপ্ত হতে যাচ্ছে বলে তাদের আশঙ্কা।

এ অবস্থায় ইউক্রেনকে বিজয়ী করতে কিংবা রাশিয়াকে ভেঙে দেওয়ার জন্য দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষে যেতে তারা প্রস্তুত নয়। এখন ইউক্রেন যুদ্ধ যদি প্রলম্বিত হয়, যদি রাশিয়া ও ইউক্রেন আরও মরিয়া হয়ে ওঠে, যদি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলো কানাগলিতে ঢুকে পড়ে, তাহলে ন্যাটোর দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতা ও ভঙ্গুরতা আরও বেশি অনিবার্য হয়ে উঠবে। সোভিয়েত পরবর্তীকালে ন্যাটো জোটের যে ধাপ্পাবাজি, সেটি সবার কাছে উন্মুক্ত হয়ে যাবে। এত বড় কোনো সংস্থায় সর্বসম্মত রাজনৈতিক মতৈক্য থাকবে, সে ধরনের কিছু আশা করা বোকামি হবে। কিন্তু সামরিক সক্ষমতার প্রসঙ্গ যখন উঠছে, তখন সবগুলো সদস্য দেশের মধ্যে অদ্ভুত একটা মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে কে কার পেছনে যাবে, সেই প্রতিযোগিতা যেন সবার মাঝে। রাশিয়ার দিক থেকে আসা পারমাণবিক ও রাসায়নিক যুদ্ধের প্রচ্ছন্ন হুমকিতেই ন্যাটোর দেশগুলোর কণ্ঠ যেন বিকল হয়ে গেছে। আবার ন্যাটোর জোটের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। সামরিক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি ছাড়া কোনো কিছু করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। সাংগঠনিক ও সামরিক, দুটি ক্ষেত্রেই ন্যাটোর কার্যক্রম সবখানেই রয়েছে। ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রএ তিন দেশে জোটটির যৌথ কমান্ডের সদর দপ্তর অবস্থিত। আবার এর শীর্ষ জেনারেল বেলজিয়ামে থাকেন। এ রকম বাস্তবতায় অস্ত্র সরবরাহ ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণে যেমন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে, ঠিক তেমনি গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানেও বাধা তৈরি হচ্ছে। আবার ইউরো-আটলান্টিকে রাশিয়াকে এবং ইন্দো-প্যাসিফিকে চীনকে সামলাতে গিয়ে ন্যাটোকে অনেক বেশি চাপ নিতে হচ্ছে। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ন্যাটো বল ছেড়ে দিয়েছিল। তারা ভেবেছিল শেষ বাঁশি বেজে গেছে। খেলা শেষ। কিন্তু খেলা শেষ হয়নি। এখন যেমন পুতিন তার হাতের ঢোল পিটিয়ে পশ্চিমকে পরীক্ষার মুখে ফেলছেন। এখন ন্যাটো যদি নিজেকে না শোধরাতে পারে, তাহলে লুকানোর জায়গা তারা আর খুঁজে পাবে না। ন্যাটো কি আবার ব্যর্থ হবে? এই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

লেখক: গবেষক ও কলাম লেখক

raihan567@yahoo.com