পেশা পাল্টে ভাসমান বেডে সবজি চাষ জেলেদের

যশোরের কেশবপুর উপজেলার মধ্যকুল রাজবংশীপাড়া এলাকায় হরিহর নদের বুকে ভাসমান বেডে সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন কর্মহীন হয়ে পড়া মৎস্যজীবী প্রায় ২০টি পরিবার। শ্যাওলায় আবদ্ধ নদে মাছ ধরতে ব্যর্থ হয়ে এখন তারা সেখানেই ভাসমান সবজি চাষ করছেন।

উপজেলার মধ্যকুল ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অনাথ বন্ধু দাস জানান, হরিহর নদ শ্যাওলায় পরিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। এ কারণে নদের তীরবর্তী মধ্যকুল রাজবংশীপাড়ার জেলেরা মাছ ধরতে না পেরে কর্মহীন হয়ে পড়েন। এ সময় হরিহর নদের শ্যাওলাকে কাজে লাগিয়ে সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি বিভাগ একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। কৃষি বিভাগ ভাসমান বেডে সবজি চাষের ওপর মধ্যকুল রাজবংশীপাড়ার শতাধিক কৃষক-কৃষাণিকে প্রশিক্ষণ দেয়।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকরা নদের শ্যাওলা প্রথমে স্তূপ করে রাখেন। শ্যাওলা পচে বেড তৈরি হলে তার ওপর দেওয়া হয় ভার্মি কম্পোস্ট। এরপর সবজির বীজ বপন করা হয়। প্রত্যেক কৃষক ৩৬টি ধাপ তৈরি করে তার ওপর সবজি চাষ করেছেন। পযার্য়ক্রমে আরও সবজি বেড তৈরি করার প্রস্তুতি চলছে।

শ্যাওলা দিয়ে তৈরি ওই ধাপে চাষ করা হয়েছে লাল শাক, পুঁইশাক, ডাঁটাশাক, পালংশাক, মিষ্টি কুমড়া, কচুশাক, পেঁয়াজ, রসুন এবং তার উপর মাচা করে লাউ ও চাল কুমড়ার চাষ করা হয়েছে। তাদের সবজি ক্ষেত পরিচর্যা করার করার জন্য দুটি নৌকা দিয়েছে কৃষি বিভাগ।

কৃষক নীল রতন বিশ্বাস জানান, সংসারের প্রয়োজন মিটিয়েও অতিরিক্ত সবজি বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

কর্মহীন হয়ে পড়া জেলে পরিবারের সদস্য মধ্যকুল রাজবংশীপাড়ার পারুল বিশ্বাস জানান, তিনি ওই নদে তিনটি ভাসমান বেড করেছেন। যার ওপর লালশাক, সবুজশাক, পুঁইশাক, ডাঁটাশাক এবং ভাসমান বেডের ওপর মাচা করে লাউ ও চাল কুমড়ার চাষ করা হয়েছে। এতে তিনি সংসারের প্রয়োজন মিটিয়ে বাকি সবজি বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতুরাজ সরকার বলেন, যাদের কৃষিজমি নেই তারা এই পদ্ধতিতে সবজি আবাদ করলে লাভবান হবেন। কোনো প্রকার কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই তারা বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করছেন। মধ্যকুল রাজবংশীপাড়ায় হরিহর নদের বুকে সবজি আবাদের লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি বিভাগ ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ গবেষণা, সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে।