তুরস্কে ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ শুরু করেছে বাংলাদেশের সম্মিলিত উদ্ধারকারী দল। এরই মধ্যে দেশটির আদিয়ামান শহরে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে জীবিত এবং তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন দলটির সদস্যরা। গতকাল শুক্রবার রাতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স থেকে পাঠানো বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়। এদিকে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত সিরিয়ার দুর্গত মানুষের জন্যও ত্রাণ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। ফায়ার সার্ভিসের বার্তায় জানানো হয় ও বাংলাদেশের সম্মিলিত উদ্ধারকারী দল গত বুধবার রাত ১০টায় বাংলাদেশ থেকে যাত্রা শুরু করে। পরদিন বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টায় তুরস্কের আদানা সামরিক বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছায়। সেখান থেকে তারা আদিয়ামান শহরে পৌঁছে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ শুরু করে।
এর আগে গতকাল দুপুরে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের সিনিয়র স্টাফ অফিসার (মিডিয়া) শাহজাহান সিকদার বাংলাদেশের ৪৬ সদস্যের উদ্ধারকারী দলটির তুরস্কে পৌঁছানোর তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ১২ সদস্যসহ বাংলাদেশের উদ্ধারকারী দলটি তুরস্কের আদানা সাকিরপাশা বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। সেখান থেকে তারা ৩৫০ কিলোমিটার দূরে আদিয়ামানের উদ্দেশে বাসে করে রওনা হয়েছে। ওই দলে সেনাবাহিনীর ২৪ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী ও ১০ জনের একটি মেডিকেল দলও রয়েছে। দলটি জরুরি ত্রাণ এবং চিকিৎসাসামগ্রীসহ বিমানবাহিনীর একটি সি-১৩০জে পরিবহন উড়োজাহাজে সেখানে গেছে।
ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, উদ্ধারকারী দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল রুহুল আমিন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, তুরস্কে উদ্ধারকারী দল এবং ভূমিকম্প-পরবর্তী জরুরি ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রী পরিবহনের জন্য ঢাকা-আঙ্কারা-ঢাকা রুটে বিমানবাহিনীর একটি সি-১৩০জে পরিবহন বিমানের বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। উড়োজাহাজটির ১৫ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরে আসার কথা রয়েছে।
এদিকে ভূমিকম্প-পরবর্তী সাহায্য হিসেবে বাংলাদেশ সরকার ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রী সিরিয়ায় পাঠিয়েছে বলে গতকাল জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিরিয়ায় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয়সংখ্যক তাঁবু, কম্বল ও শুষ্ক খাবারসহ ১১ টন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বিমানবাহিনীর ১৭ সদস্যর একটি দল গতকাল রাতে বিমানবাহিনীর একটি সি-১৩০জে পরিবহন বিমানে করে সিরিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে। বিমানবাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন জামিল উদ্দিন আহম্মদ মিশন কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করছেন। বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আবদুল হান্নানের সার্বিক নির্দেশনায় মিশনটি পরিচালিত হবে। সহকারী বিমানবাহিনী প্রধান (পরিচালন) এয়ার ভাইস মার্শাল এএইচএম ফজলুল হক বিমানবাহিনী ঘাঁটি বঙ্গবন্ধু-এর এয়ার মুভমেন্টে উপস্থিত থেকে সহায়তাকারী দলকে বিদায় জানান। সহায়তা প্রদান শেষে সি-১৩০জে পরিবহন বিমানটি ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ফিরবে।