দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে? কেমন রাষ্ট্রপতি হলে ভালো হতোএমন কোনো বিষয়েই আগ্রহ নেই রাজপথের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির। দলটির নেতারা বলছেন, তারা আন্দোলনে রয়েছেন। সরকার রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে সরকার কী করল না করল সেসব বিষয়ে তাদের কোনো আগ্রহ নেই।
গতকাল রবিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে মনোনয়ন দেওয়ার পর স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন করছে বিএনপি। সরকার কী করল না করল সেসব বিষয়ে আগ্রহ নেই বিএনপির।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আজকে যে উদ্দেশ্যে প্রেস ব্রিফিংয়ের জন্য ডেকেছি গতকালের ইউনিয়ন পদযাত্রায় সংঘটিত বিষয়গুলো আপনাদের অবহিত করা। আপনারা তো জানেন, ১০ দফা আমাদের দাবি, প্রথম দফা হচ্ছে, এই অবৈধ স্বৈরাচারী সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বাতিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়া। এসব হলো ইস্যু। এই সরকার কী করছে, না করছে এসব বিষয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
জানতে চাইলে গতকাল রবিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতায় রয়েছে। আওয়ামী লীগ কাকে রাষ্ট্রপতি বানাচ্ছে, তাতে বিএনপির আগ্রহ দেখানোর কিছু নেই।’
এর আগে গত সপ্তাহে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘সংসদে আওয়ামী লীগের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। সুতরাং তারা যাকে পছন্দ করবেন তিনিই রাষ্ট্রপতি হবেন। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আমরা কিছুই ভাবছি না। আমরা এখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আন্দোলনে রয়েছি। আগে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা: রবিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে।
গত শনিবার সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে পদযাত্রা কর্মসূচিতে ‘হামলা, বাধা ও নেতাকর্মীদের আটকের’ প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দিশাহারা হয়ে পড়েছে। দিশাহারা হয়ে তারা দেশে বিশৃঙ্খলা করতে বিএনপির পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে। যেকোনো কর্মসূচি দিলেই সরকার বলে, তারা (বিএনপি) বিশৃঙ্খলা ও সন্ত্রাস করছে।’
তিনি বলেন, ‘পাল্টা কর্মসূচি যখন একটা রাজনৈতিক দল দেয়, তখন বুঝতে হবে, তারা একেবারে দেউলিয়া হয়ে গেছে। আমরা যেদিন কর্মসূচি দেব, সেদিনই তাদের (আওয়ামী লীগ) কর্মসূচি দিতে হবে! এতে প্রমাণ হয়, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের অর্থনৈতিক ব্যর্থতা, গণতন্ত্র হত্যা, সামাজিক অব্যবস্থা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ সবকিছুতে দিশাহারা হয়ে দেশে বিশৃঙ্খলার জন্য পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে।’
স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আপনারা (আওয়ামী লীগ) বলেছেন, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত কর্মসূচি দিয়ে যাবেন। অনুরোধ জানাচ্ছি, কোন দিন কোন কর্মসূচি হবে, তা এখনই ঘোষণা দেন। তাহলে আমাদের পরবর্তী কর্মসূচিগুলো নিরাপদ স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে করতে পারি। কিন্তু আমরা কর্মসূচি ঘোষণার পরে আওয়ামী লীগ যদি কর্মসূচি ঘোষণা দেয়, তাহলে বুঝে নিতে হবে, ইচ্ছাকৃতভাবে তারা দেশে একটা গন্ডগোল লাগানোর চেষ্টা করছে।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।