তীব্র আবাসন সংকট বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিভিন্ন রকমের অব্যবস্থাপনা তো আছেই। প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর হয়েছে, এখনো শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা অপ্রতুল। ফলে তাদের থাকতে হচ্ছে মেসে, ভাড়া বাসায়। গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য হল মাত্র তিনটি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও শহীদ মুখতার ইলাহী হল ছেলেদের জন্য বরাদ্দ এবং মেয়েদের জন্য রয়েছে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল। সব হল মিলিয়ে সিটসংখ্যা ৯৩৭। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি অনুষদের ২২টি বিভাগে এখন প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী। মাত্র ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা পাচ্ছে।
২০১৬ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ হাসিনা ছাত্রীনিবাস নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২০১৭ সালে কাজ শুরু করে পরের বছরের জুনে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখনো নির্মাণকাজ শেষ হয়নি।
তীব্র আবাসন সংকটের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হলে অবস্থান করার কারণে নতুন শিক্ষার্থীরা আবাসন সুবিধা পাচ্ছে না। জানা গেছে, স্নাতক-স্নাতকোত্তর শেষ করলেও অনেকে হলে অবস্থান করে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে থাকতে হচ্ছে মেস ভাড়া করে, বাসা ভাড়া করে। অনেকের পক্ষে মেস ভাড়া ও খাওয়া খরচ দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। নবীন শিক্ষার্থীদের হলে ওঠার কোনো রীতিসিদ্ধ ব্যবস্থা না থাকায় নতুন অবস্থাতেই তাদের পোহাতে হচ্ছে নানা দুর্ভোগ।
২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফ জানান, প্রথম বর্ষে ভর্তির পর কোথায় থাকব, কোথায় খাব এসব নিয়ে খুব ভোগান্তিতে থাকতে হয়েছে। ফলে প্রথমদিকের বেশকিছু ক্লাস মিস হয়েছে।
বাড়তি দ্রব্যমূল্যের দোহাই দিয়ে বাসার মালিকরাও হাতিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। অতিরিক্ত ভাড়া, অপরিচ্ছন্ন আবাসন, অপর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মেসের, ভাড়া বাসার শিক্ষার্থীদের। তাদের পড়ালেখায় বাধা পড়ছে।
বেশ কয়েক অনাবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন আমাদের অধিকার। আমরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয় সবসময়। স্থানীয়দের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেশ কয়েকবার সংঘর্ষও হয়েছে। মাঝেমধ্যেই সন্ধ্যার পর মেসে ফেরার পথে হুমকির সম্মুখীন হতে হয়; ছিনতাইয়ের শিকারও হতে হয়। মেয়েরা প্রায়ই ইভটিজিংয়ের শিকার হয়।
হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদেরও থাকতে হয় গাদাগাদি করে। এক রুমেই থাকতে হচ্ছে অনেককে। এক বিছানাতেই থাকতে হচ্ছে একাধিক শিক্ষার্থীকে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সবুজ বলেন, হলে উঠে একই বিছানায় দুজন, একই টেবিলে দুজনের পড়াশোনা। খুবই কষ্টকর ব্যাপার। খাবারের সমস্যা প্রতিদিন বেড়েই চলেছে।
শহীদ মুখতার ইলাহী হলের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ বলেন, চার সিটের এক রুমে ৬ জনকে থাকতে হচ্ছে। গোসল থেকে শুরু করে সবকিছুই পালাক্রমে করতে হয়। অনেক সময় এসব কারণে ক্লাসে লেট হচ্ছে, ক্লাস মিসও হচ্ছে।
আবাসন বিষয়ে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী বলেন, পড়াশোনা শেষ করা আপুরাও হলে থাকে; তাই আমাদের সিট পেতে অনেক দেরি হয়েছে। আগে মেসে থাকার সময় ফেরার পথে বা ক্যাম্পাসে আসার পথে ইভটিজিং ও নানান হয়রানির শিকার হতে হতো। আর হলে ওঠার পর এক বেডে দুজনের থাকা, এক টেবিলে দুজনের পড়াশোনা ছাড়াও রান্না, গোসল প্রভৃতি কাজ পালাক্রমে করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রাধ্যক্ষ মীর তামান্না ছিদ্দিকা দেশ রূপান্তরকে বলেন, হলে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থী নেই বললেই চলে। কিছু সমস্যা ছিল, তবে আমরা দ্রুত এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠছি।