ঢাকায় মাথাব্যথায় ভুগছে বছরে আড়াই লাখ শিশু

ভিজ্যুয়াল পলিউশনের কারণে ঢাকা শহরে প্রতিবছর ২ লাখ ৭০ হাজার শিশু চক্ষু রোগে এবং মাথাব্যথায় আক্রান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি মানসিক সমস্যায় ভুগছে ঢাকা শহরের ৭ শতাংশ বাসিন্দা। বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডো) এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল রবিবার রাজধানীতে এসডোর কার্যালয়ে ‘ভিজ্যুয়াল পলিউশন ইন দ্যা সিটি অফ ঢাকা : অ্যা পাবলিক হেলথ, এনভায়রনমেন্ট, অ্যান্ড ট্রাফিক ডিসট্রাকশন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এটি উপস্থাপন করেন এসডোর প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট মালিহা হক।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ভিজ্যুয়াল পলিউশনের কারণে ঢাকা শহরের ২৪ শতাংশ মানুষ চোখের সমস্যায় ভুগছে ও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। ঢাকা শহরের ২৭টি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর শহরের প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার শিশু চোখের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা এবং গুরুতর মাথাব্যথার জন্য চিকিৎসা নেয়।

গবেষণায় ভিজ্যুয়াল পলিউশনকে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ওভারটেকিং, বেপরোয়া ও মাতাল হয়ে গাড়ি চালানো। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ভিজ্যুয়াল পলিউশনের কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ৪০ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৯ সালে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ২২৭ জন, যা বেড়ে ২০২২ সালে ৮ হাজার ৮০০ জন হয়েছে। ভিজ্যুয়াল পলিউশন সম্পর্কে জনসচেতনতার হার খুবই কম। ৯৬ শতাংশ নগরবাসীর এ সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। বিলবোর্ড, তারযুক্ত বিদ্যুতের খুঁটি এবং বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক, কুয়াশা, গ্রাফিতি, ইত্যাদি ভিজ্যুয়াল পলিউশনের উদাহরণ এবং যা জনগণের সৌন্দর্য উপভোগে বাধা দেয়। ভিজ্যুয়াল পলিউশনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও মানবসৃষ্ট আবাসভূমি নষ্ট হওয়ার কারণে বাস্তু সংস্থানের ক্ষতি হচ্ছে। এর ফলে নগরবাসী স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে।

অনুষ্ঠানে এসডোর চেয়ারপারসন ও সাবেক সচিব সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ বলেন, ভিজ্যুয়াল পলিউশন বিষয়টি ধাপে ধাপে মোকাবিলা করতে হবে। ভিজ্যুয়াল পলিউশনের ঝুঁকি কমাতে আমাদের অবশ্যই এই সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে এ সম্পর্কে বোঝাতে হবে।

এসডোর মহাসচিব এবং স্টাডি টিম লিডার ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ভিজ্যুয়াল পলিউশনের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বিলবোর্ড, তার ও বিদ্যুতের খুঁটি, কুয়াশা, অতিরিক্ত ট্রাফিক সাইন, আবর্জনা বা আবর্জনার স্তূপ, শহুরে গ্রাফিতি, অতিরিক্ত আলো বা নিয়ন সাইন দূষণ, এবং ডিজিটাল বিলবোর্ড ইত্যাদি। প্লাস্টিকের ব্যাগ ও আবর্জনা এই পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে। অথচ এ সম্পর্কে মানুষের ধারণা কম।

এসডোর মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ভিজ্যুয়াল পলিউশনের পরিণতি সুদূরপ্রসারী। এর মধ্যে রয়েছে মানসিক বিভ্রান্তিও অবসাদ, মতামত প্রকাশের ক্ষমতা হ্রাস, পরিচয়হীনতা, রাস্তায় যানজট, বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি, মানসিক অস্থিরতা ও অসুস্থতা, চোখের সমস্যা, নান্দনিকতা বোধ হ্রাস, কমিউনিটির সামগ্রিক ক্ষতি ইত্যাদি। যে শিশুরা শৈশব থেকেই ভিজ্যুয়াল পলিউশনের সংস্পর্শে এসেছে, তারা প্রায়ই অপ্রীতিকর পরিবেশের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, এবং তাদের স্বাভাবিক আবেগ হারিয়ে যাচ্ছে।

এই গবেষণায় ঢাকা শহরের ১ হাজার ৩৮০ জন বাসিন্দা অংশ নেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসক, রোগী, স্কুল-কলেজ-বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, চালক, নির্মাণ শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষ রয়েছেন।