আগামী নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ হবে

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণ ভোট দিলে আগামী সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবারও দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। আমি কখনই ভোট কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চাই না। আমি সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি।

গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কাউন্সিলর ডেরেক শোলের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিকে বলেন, তার সরকার সবসময় খাদ্য ও ভোটের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে সরকারপ্রধান তার নেওয়া উদ্যোগগুলো তুলে ধরে বলেন, প্রথমবারের মতো সংসদে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন আইন পাস হয়েছে এবং সেই আইনের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ ইসি গঠন করা হয়েছে। ইসি সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন এবং এর প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা রয়েছে।

শেখ হাসিনা এ সময় আওয়ামী লীগ ও দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশের অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের ভিত্তি নেই। বিএনপি ও জাতীয় পার্টির জন্ম ক্যান্টনমেন্টে হয়েছে।

সরকারপ্রধান বলেন, গত ১৪ বছরে সামাজিক-অর্থনৈতিক বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের উন্নয়ন দৃশ্যমান। দেশে অব্যাহত গণতান্ত্রিক চর্চা ও স্থিতিশীলতার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে।

সৌজন্য সাক্ষাতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও রোহিঙ্গা বিষয়ে আলোচনা প্রাধান্য পেয়েছে বলে জানান স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম।  রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের এই উদ্যোগ নেওয়া উচিত। কারণ এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বেড়ে যাচ্ছে।

যুদ্ধ কখনই মানবজাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রকে সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। আলোচনার মাধ্যমে এই বিরোধের মীমাংসা হতে পারে।

রোহিঙ্গা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় বোঝা হিসেবে দেখা দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি হচ্ছে এবং ওখানে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা নাগরিকের কারণে স্থানীয়রা সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা মাদক পাচার, মানব পাচার, সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃসহিংসতার মতো নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। পাঁচ বছর ধরে তারা কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের কারণে স্বাভাবিক প্রাকৃতিক পরিবেশ ও স্থানীয়দের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। আর তাই এখন তাদের সেখানে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য উন্নত জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে আত্মসংস্থানমূলক কাজসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করেছে সরকার। বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা প্রদানেরও আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশ কক্সবাজার ও ভাসানচরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছে।

এ সময় শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও অনুকূল পরিবেশে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় ডেরেক শোলে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসনের জন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব। মিয়ানমারে আবারও কোনো গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এলে প্রত্যাবাসন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশে সম্প্রতি কয়েকজন উচ্চপদস্থ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তার সফর দু’দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বের প্রতিফলন উল্লেখ করে শোলে বলেন, ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। আমি দু’দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের ব্যাপারে আশাবাদী।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন ও বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস এ সময় উপস্থিত ছিলেন।