তুরস্ক ও সিরিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা ৪১ হাজার ২১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে তুরস্কে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫ হাজার ৪১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আর সিরিয়ায় প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮০০ জনে। তবে এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংস স্তূপ থেকে কাউকে জীবিত পাওয়ার আশা কমে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় ইতি টানা হয়েছে উদ্ধারকাজও।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি প্রথমে ৭ দশমিক ৮ মাত্রা ও পরে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাতে দুই দেশে অসংখ্য বাড়ি ধসে পড়ে। তবে দফায় দফায় ভূমিকম্প পরবর্তী ঝাঁকুনি আর তীব্র শীতে ব্যাহত হয় উদ্ধার কাজ। তারপরও উদ্ধারকর্মীদের নিরলস চেষ্টায় গত আট দিনে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া অনেকই জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হয়েছে হাজার হাজার মরদেহ। এখনো অসংখ্য মানুষের খোঁজ মেলেনি। ধারণা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচেই মরে পড়ে আছে তারা কিংবা আহত হয়ে ক্ষুধা-পিপাসায় গুনছে অন্তিম সময়ের প্রহর।
আল-জাজিরা বলছে, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আর কাউকে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় বর্তমানে উদ্ধারকাজ প্রায় শেষ করা হয়েছে। এখন মূলত বাড়ি-ঘর হারানো ও খাদ্য সংকটে থাকা মানুষদের সহায়তা করা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপ বিষয়ক পরিচালক হ্যান্স হেনরি পি ক্লাগ জানিয়েছেন, তুরস্ক ও সিরিয়া মিলিয়ে বর্তমানে ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষের জরুরিভিত্তিতে মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। অপরদিকে সিরিয়ার ৫০ লাখ দুর্গত মানুষের আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ও খাবারের জন্য ৩৯৭ মিলিয়ন ডলার সহায়তা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে জাতিসংঘ। এক যুগের গৃহযুদ্ধে ক্ষত-বিক্ষত মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সিরিয়া। এর মধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে মৃত্যুপুরী হয়ে উঠেছে দেশটি। বর্তমানে সেখানে লাখ লাখ মানুষ আশ্রয়হীন। খাদ্য সংকট তো রয়েছেই। নেই যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ। বিষয়টি উল্লেখ করেই বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ মানুষের জন্য এ সহায়তা চেয়েছে জাতিসংঘ।
মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সংস্থাটির মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘সিরিয়ার প্রায় ৫০ লাখ দুর্গত নাগরিকের জন্য ‘জীবন রক্ষা ত্রাণ’ জোগাবে এ তহবিল, যা দিয়ে তিন মাস চলা যাবে’।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়ে গুতেরেস বলেন, ‘বিধ্বংসী ভূমিকম্পের এক সপ্তাহ পর সিরিয়ায় লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়াও প্রচণ্ড শীতের মধ্যে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে তাদের। আমরা এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছি। তবে এজন্য আরও অনেক কিছু প্রয়োজন’।
তিনি সদস্য দেশগুলোকে ‘দেরি না করে’ জাতিসংঘের এই প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে যথাসাধ্য অর্থ সহায়তা দিয়ে লাখো শিশু, নারী এবং পুরুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘ ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের মধ্যে তিন মাসের জন্য তুরস্ক থেকে দুটি নতুন ক্রসিং পয়েন্ট খোলার চুক্তির একদিন পরেই এই আহ্বান জানালেন গুতেরেস।