অল্পতেই উদ্বেগ, অবসাদে ভোগেন?

কর্মক্ষেত্রের জটিলতা অথবা ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনে আজকাল কম-বেশি সকলেই অবসাদ ও উদ্বেগের শিকার। তবে মনে রাখবেন, উদ্বেগ কিন্তু শুধুমাত্র মানসিক সমস্যা নয়। এর সঙ্গে যোগ রয়েছে শরীরেরও। উদ্বেগ থেকে দেখা দিতে পারে স্থূলতা, প্রেশার, সুগার, হার্টের রোগের মতো নানা শারীরিক সমস্যা। তাই চিকিৎসকেরা বারবার মানসিকভাবে সুস্থ থাকার কথা বলে থাকেন।

উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে যে খাবার ত্যাগ করা দরকার-

কফ: কফি এবং ক্যাফেইন উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠা তৈরি করে না। তবে কফি পান করার পরে উদ্বেগের লক্ষণ আরও খারাপ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে, অত্যধিক পরিমাণে কফি খেলে শরীরে উত্তেজনা বা উদ্বেগ বেশি পরিমাণে তৈরি হয়। পাশাপাশি কফি খেলে অনিদ্রার সমস্যাও বেড়ে যেতে পারে।

প্রক্রিয়াজাত তেল: প্রক্রিয়াজাত তেল সাধারণত ভুট্টা, গ্রেপ সিড, সয়াবিন, সূর্যমুখী এবং পাম ফলের মতো ফসল থেকে তৈরি করা হয়। প্রক্রিয়াকরণের কারণে এই তেলগুলিতে ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড অনেক বেশি থাকে এবং স্বাস্থ্যকর ওমেগা ৩ থাকে না। অতিরিক্ত ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড অন্ত্র এবং মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে। তাই এই ধরনের তেলের ব্যবহার কমালে উদ্বেগজনিত সমস্যাও কমবে।

রিফাইন্ড সুগার: কেক, পেস্ট্রি, কুকিজ, সিরিয়াল, গ্র্যানোলা বার, কেচাপ, স্যালাড ড্রেসিং এবং পাস্তা সসের মতো খাবারে প্রচুর পরিমাণে পরিশোধিত চিনি থাকে। এই সব চিনিযুক্ত খাবার বেশি খেলে অন্ত্রের ক্ষতি হয়, প্রদাহ বাড়ে, উদ্বেগ বাড়ে এবং মেজাজ আরও খারাপ হয়।

প্রসেসড ফুড: প্যাকেটজাত সমস্ত খাবারকেই প্রসেসড ফুড বলা যায়। যেমন - বেকড, ফ্রিজড, ক্যানড, ড্রায়েড এবং পাস্তুরাইজিং প্রোডাক্ট। দুধ, তেল, সফট ড্রিংক, পাউরুটি, ফ্রুট জুস, সসেজ, বেকন, চিকেন নাগেটস, পিনাট বাটার, পিৎজা, বার্গার, প্রভৃতি প্যাকেটজাত খাবারকে প্রসেসড ফুড বলা হয়ে থাকে। এই ধরনের খাবারগুলি স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। বেশির ভাগ প্রসেসড ফুডে সুগার কিংবা হাই ফ্রুকটোজ, কর্ন সিরাপ, রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট, ট্রান্স ফ্যাট, প্রসেসড ভেজিটেবল ওয়েল থাকে। এগুলো থেকে স্থূলতা, হার্টের রোগ, রক্তচাপ, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তা ছাড়া, অত্যধিক পরিমাণে প্যাকেটজাত বা প্রসেসড ফুড যারা খান, তারা বেশি মাত্রায় উদ্বেগ ও অবসাদে ভোগেন।

মদ: অবসাদ ও উদ্বেগ বাড়লে অনেকেই মদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত মদ্যপানে উপকার তো হয়ই না, বরং বেড়ে যায় মানসিক সমস্যা। স্নায়ুতন্ত্রের ওপর খারাপ প্রভাব পড়ে। তাই উদ্বেগের সময় অ্যালকোহল এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।