রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া বা দীর্ঘ সময় বিছানায় শুয়েও ঘুম না আসার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ সমস্যাকে ইনসমনিয়া বা অনিদ্রা বলা হয়। মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত ক্যাফেইনসহ নানা কারণে অনিদ্রা হতে পারে। এর পাশাপাশি কিছু পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিও ঘুমের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২ ও ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে ঘুমের সমস্যার সঙ্গে এর সম্পর্ক দেখা যায়। তবে শুধু এসব পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিকেই অনিদ্রার একমাত্র কারণ হিসেবে ধরা ঠিক নয়।
ভিটামিন বি১২:
স্নায়ুতন্ত্র ও লোহিত রক্তকণিকা তৈরির জন্য ভিটামিন বি১২ গুরুত্বপূর্ণ। এর ঘাটতিতে দুর্বলতা, রক্তস্বল্পতা, হাত-পায়ে ঝিনঝিন করা কিংবা স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও অন্যান্য প্রাণিজ খাবার ভিটামিন বি১২-এর ভালো উৎস। নিরামিষভোজীদের জন্য কিছু ফর্টিফায়েড খাবারও উৎস হতে পারে।
ম্যাগনেশিয়াম:
শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ম্যাগনেশিয়াম প্রয়োজন। বাদাম, বীজ, ডাল, পূর্ণ শস্য ও বিভিন্ন সবুজ শাকসবজিতে ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়। তবে ঘুমের সমস্যা হলেই ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি রয়েছে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
ভিটামিন ডি:
ভিটামিন ডি হাড়ের স্বাস্থ্যসহ শরীরের নানা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সূর্যের UVB রশ্মির সংস্পর্শে ত্বকে শরীর নিজেই ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া তৈলাক্ত মাছ, ডিমের কুসুম এবং ভিটামিন ডি-ফর্টিফায়েড দুধ বা অন্যান্য খাবার থেকেও এটি পাওয়া যায়।
তবে ভিটামিন ডি নিয়ে প্রচলিত কিছু তথ্য বিভ্রান্তিকর। সাধারণ বাদাম, আখরোট, পালং শাক বা বীজকে ভিটামিন ডি-এর উল্লেখযোগ্য উৎস হিসেবে ধরা যায় না। আবার মাশরুমে ভিটামিন ডি-এর পরিমাণ প্রজাতি ও UV আলোর সংস্পর্শের ওপর নির্ভর করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা থাকলে শুধু ভিটামিন বা মিনারেল সাপ্লিমেন্ট শুরু না করে সমস্যার কারণ খুঁজে দেখা জরুরি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন ডি, বি১২ বা অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি পরীক্ষা করা যেতে পারে।
তাই রাতে ঘুম না আসাকে শুধু কোনো একটি ভিটামিনের ঘাটতির ফল হিসেবে না দেখে, ঘুমের অভ্যাস, মানসিক চাপ, জীবনযাপন ও অন্যান্য শারীরিক কারণও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।