নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার হত্যা মামলার ২০ বছর পর বিচারকাজ শুরু হয়েছে। মামলার বাদী, নিহতের বড়ভাই সাবেক বিএনপি নেতা এড. তৈমুর আলম খন্দকার এর সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে এ বিচার কাজ শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক শাম্মি আখতারের আদালতে এই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এর আগে, দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় মামলার প্রধান আসামি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও শীর্ষ সন্ত্রাসী জাকির খান, নাজির হোসেন ও মোক্তার হোসেনকে আদালতে তোলা হয়।
বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন নিহতের বড় মেয়ে খন্দকার ফাতেমা-তুজ জোহরা শবনম। তিনি জানান, আজ ২০ বছর পর আমার বাবার হত্যা মামলার প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণ হলো। আজকের সাক্ষ্যটা সম্পূর্ণ হয়নি। আগামী ৯ মার্চ ফের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে। আমি বিশ্বাস করি আমার বাবার হত্যার বিচার অবশ্যই হবে।
আদালতে সাক্ষীর বিষয়ে এড তৈমূর আলম খন্দকার গণমাধ্যমকে জানান, আমি জাকির খানসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আমার ভাই সাব্বির হত্যার বিষয়ে অভিযুক্ত করে সাক্ষী দিয়েছি। কিভাবে কেন জাকির খান ও সহযোগীরা এ হত্যায় জড়িত তা বিস্তরভাবে বলার চেষ্টা করেছি।
তিনি আরও জানান, ১৮ ফেব্রুয়ারি সাব্বির হত্যাকাণ্ডের ২০তম বার্ষিকী। প্রতি বছরের মতো এবারও হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে নানা কর্মসূচী পালিত হবে।
আসামি পক্ষের আইনজীবী এড. রবিউল হোসেন জানান, সাব্বির আলম হত্যা মামলায় জাকির খানের বিরুদ্ধে আজকে প্রথম সাক্ষী আসছেন। এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়নি।
রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুর রহিম বলেন, এই মামলায় আজ একজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হলো। মামলার আরও ২৭/২৮ জন সাক্ষী রয়েছেন। পর্যায়ক্রমে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ চলবে।
প্রসঙ্গত, অপরারেশন ক্লিন হার্ট চলাকালে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন তৎকালীন বিকেমমইএর সহ সভাপতি সাব্বির আলম খন্দকার। এর জের ধরে ২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি শহরের মাসদাইর এলাকায় নিজ বাড়ির পাশে আততায়ীদের গুলিতে নিহত হন সাব্বির। হত্যাকাণ্ডের পর তার বড় ভাই তৎকালীন তৈমুর আলম বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনের তৎকালীন বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।