প্রতিভার চর্চায় মেনসা

সর্বোচ্চ বুদ্ধ্যঙ্ক-সম্পন্ন প্রতিভাবানদের আঁতুড়ঘর মেনসা। বুদ্ধিবৃত্তি চর্চার এই সংগঠনটির সদস্যরা হলেন মেনসান। শিশু মেনসানদের প্রতিপালন বাবা-মায়ের জন্য অনেক ক্ষেত্রে ক্লান্তিকর হয়ে থাকে। লিখেছেন নাসরিন শওকত

দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের সমারসেট কাউন্টির শহর পোর্টিসহেড। এই শহরের চার বছরের শিশু টেডি। বিদেশি ছয়টি ভাষায় ১০০ পর্যন্ত সংখ্যা গুনতে পারে সে। এমনকি চীনের প্রাচীন মান্দারিন ভাষাও তার আয়ত্তে। অবিশ^াস্য শোনালেও টেডির যখন বয়স ২, তখন সে বাচ্চাদের টেলিভিশন চ্যানেল দেখে নিজে নিজেই পড়া শিখেছে। টেডির মা বেথ হবস তার ছেলে সম্পর্কে বলেছেন, ‘টেডি মাত্র ২৬ মাস বয়সে পড়তে শিখেছে। সে বাচ্চাদের টেলিভিশন দেখে এবং অক্ষরের উচ্চারণ শুনে পড়া রপ্ত করেছে।’ বাবা-মাকে অবাক করে দিয়ে ৩ বছরের টেডিকে মেনসার সদস্য করে নেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির যুক্তরাজ্যের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য এখন সে।

বুদ্ধিই যেখানে সব

মেনসা সর্বোচ্চ বুদ্ধ্যঙ্ক (ওছ)-সম্পন্ন ব্যক্তিদের সংগঠন। যেখানে আইকিউ বা বুদ্ধ্যঙ্কই সবকিছু। লাতিন ‘মেনসা’ শব্দের অর্থ ‘টেবিল’। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যার একাধিক অর্থ রয়েছে যেমন‘মন’, ‘টেবিল’ এবং ‘মাস’। প্রতিভাবানদের এই সংগঠনটির এমন নামকরণ করার কারণও রয়েছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, পেশা, বয়স, রাজনীতি, পড়াশোনা, জাতীয় পরিচয়, এমনকি সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সবাই সমানএটাই মেনসার আদর্শ। এই মতাদর্শকে সামনে রেখেই মেনসা তার সদস্যদের জন্য নিয়মিত গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে থাকে। এটি সমমনা সদস্যদের সামাজিকতার কেন্দ্র। যেখানে প্রত্যেক সদস্য তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা অব্যাহত রাখতে নানা আকর্ষণীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। মেনসার ধারণাটি প্রথম উৎপত্তি ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে । অ্যাটর্নি রোল্যান্ড বেরিল ও বিজ্ঞানী ল্যান্সলট ওয়ার গড়ে তোলেন সংগঠনটি। মেনসা

প্রাথমিক অবস্থায় জাতীয় দল ও পরে বৃহত্তর পরিসরে আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে গড়ে ওঠে। তখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও জার্মানিতেও এর কার্যক্রম শুরু হয়।

মেনসার সদস্যদের বলা হয় ‘মেনসান’। সমাজের জাতীয়, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং আর্থসামাজিক বিভিন্ন স্তর থেকে আসায় মেনসার সদস্যরা অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে থাকেন। মূলত নারী-পুরুষ ও শিশুরা এর সদস্য, যাদের পেশাগত পরিচয়ও একইভাবে বৈচিত্র্যময়, যেমন এদের মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে গৃহকর্মী, বিজ্ঞানী, ট্রাক ড্রাইভার, চিকিৎসক, কৃষক, শিল্পী এবং অনেকেই রয়েছেন। আবার বয়সেও রয়েছে তাদের ভিন্নতা। যেমন : ৪ থেকে ৯০ বছরেরও বেশি বয়সের সদস্য রয়েছেন। তবে এদের মধ্যে বৃহত্তম দুটি বয়সের দল হলো, ১৪ থেকে ৩৩ এবং ৩৩ থেকে ৩৪ পর্যন্ত।

সদস্য যোগ্যতা

মেনসাকে বলা হচ্ছে, বিশে^র উচ্চ আইকিউ-সম্পন্নদের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীনতম সংগঠন। তাই এর প্রত্যেক সদস্যের জন্য একমাত্র যোগ্যতা হলো অত্যুচ্চ বুদ্ধ্যঙ্ক (হাই-আইকিউ)-সম্পন্ন হওয়া। আইকিউ অর্থ বুদ্ধ্যঙ্ক। এর ইংরেজি প্রতিশব্দ ওহঃবষষরমবহপব ছঁড়ঃরবহঃ, যার অর্থ বুদ্ধিমত্তার ভাগফল। এটি মানুষের বুদ্ধিমত্তা মূল্যায়ন বা পরিমাপ করার পরিকল্পিত পদ্ধতি, যা বিভিন্ন প্রমিত পরীক্ষার প্রাপ্ত ফলাফলের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। এই বুদ্ধ্যাংকের পরীক্ষাগুলোতে যুক্তি, সমস্যা সমাধান, কোনো জিনিসের মধ্যে সম্পর্ক বোঝার ক্ষমতা এবং তথ্য সংরক্ষণ করার ক্ষমতা রয়েছে। 

কেউ মেনসার সদস্য হতে চাইলে তাকে অনুমোদিত বুদ্ধ্যাংকের পরীক্ষায় বসতে হয় । যেখানে নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ১০০ নম্বরের মধ্যে ৯৮তম (পার্সেন্টাইল) শতাংশ বা তারও বেশি সফলাঙ্ক বা স্কোর অর্জন করা (এর মানে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের সবার মধ্যে ৯৮ শতাংশের সমান বা তারও বেশি নম্বর পাওয়া) বাধ্যতামূলক। এই পরীক্ষাটি একজন যোগ্য পরিচালক বা পরিদর্শকের তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়ে থাকে। সংগঠন মেনসাও এ ধরনের পরীক্ষা নিয়ে থাকে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, স্ট্যানফোর্ড-বিনেট ইন্টেলিজেন্স স্কেলগুলোর কথা। স্ট্যানফোর্ড-বিনেট স্কেল অনুযায়ী, সর্বনিম্ন গ্রহণযোগ্য সফলাঙ্ক হলো ১৩২। যেখানে মার্কিন মনোবিজ্ঞানী ক্যাটলের ওয়েচসলার পরীক্ষায় (ডব্লিউএআইএস, ডব্লিউআইএসসি) যথাক্রমে ১৪৮ ও ১৩০ হয়ে থাকে। বেশির ভাগ আইকিউ পরীক্ষার মানদণ্ডের নকশা এমনভাবে করা হয়েছে, যেখানে ১০০-এর গড়ে ১৫ মান বিচ্যুতিসহ সফলাঙ্ক রাখা আছে। এ ধরনের অবস্থায় স্বাভাবিক বণ্টনের হিসাবে ৯৮তম শতাংশের সফলাঙ্ক হয় ১৩১।

জাতীয় দলগুলো থেকে সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে মেনসার প্রায় সব দেশই সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্ব পর্যবেক্ষণ পরীক্ষা (আইকিউ টেস্ট ব্যাটারি) ব্যবহার করে থাকে। এ ক্ষেত্রে আমেরিকান মেনসা ব্যতিক্রম। তারা নিজেদের মতো পরীক্ষা পদ্ধতি তৈরি করেছে। এই পরীক্ষা পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণ করে থাকে আমেরিকান মেনসাই। এ ক্ষেত্রে তারা অন্যসব পরীক্ষার সফলাঙ্কের সঙ্গে তুলনা হয় এমন কোনো সফলাঙ্ক  দেন না। তারা শুধু একজন ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে মনোনীত করার জন্য এই পরীক্ষা নিয়ে থাকেন।

অনেক জাতীয় দলে আবার একজন ব্যক্তিকে সদস্য হওয়ার জন্য মেনসার একটি মাত্র পরীক্ষাতেই অংশ নিতে হয়। যদিও তার জন্য অন্যসব পরীক্ষার ফলাফলসহ আবেদনপত্রটি পরেও জমা দেওয়ার সুযোগ থাকে। বিভিন্ন উন্নয়নশীল সমাজের প্রতিভাবানদের জন্য সুখবর হলো, মেনসার এই পরীক্ষার সুযোগ দ্রুতই বাড়ছে।

মেনসার কার্যক্রম

আন্তর্জাতিক সংগঠন মেনসা মূলত মানবতার স্বার্থে কাজ করে থাকে। তাই তাদের লক্ষ্য ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তাকে চিহ্নিত করা, বোঝা ও প্রতিপালন বা শানিত করা। তারা প্রতিভাবানদের বুদ্ধিমত্তার প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে গবেষণাকে উৎসাহিত করে থাকে এবং সেই সঙ্গে এর সদস্যদের অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি দিয়ে তাদের জন্য সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সুযোগ তৈরি করে। এ ছাড়া মেনসা তার সদস্যদের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাধারণা বিনিময়ের জন্য ফোরামের ব্যবস্থা করে থাকে।

একজন মেনসান বিভিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা দলে, সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এবং বার্ষিক আলোচনা সভায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। এজন্য প্রতি বছর বেশ কিছু দেশের শহরগুলোতে একটি বড় অনুষ্ঠান করা হয়ে থাকে, যাকে বার্ষিক সমাবেশ (এজি) বলা হয়। যেখানে বক্তৃতা, নাচ, গান, নেতৃত্বের কর্মশালা, শিশুদের জন্য নানা অনুষ্ঠান, খেলা ও অন্যসব কর্মকাণ্ডেরও আয়োজন করা হয়। এদিকে বড় এলাকার সদস্যদের আকৃষ্ট করার জন্য বিভিন্ন শহরে ছোট সমাবেশের আয়োজন করা হয়, এটি আঞ্চলিক সমাবেশ (আরজি)। আর স্থানীয় দলগুলো ব্যক্তিগত পর্যায়ে থেকে সদস্য ও অতিথিদের জন্য ছোট ছোট অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে, যেখানে মধ্যাহ্নভোজ, নৈশভোজ, বক্তৃতা, ভ্রমণ, বাইরে নাটক মঞ্চায়ন ও নানা খেলা চলে।

মেনসার সদস্যরা আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে একাধিক ‘বিশেষ আগ্রহী দল’ বা স্পেশাল ইন্টারেস্ট গ্রুপ (এসআইজি) গঠন করে থাকেন।  আন্তর্জাতিক মেনসায়  বিভিন্ন শ্রেণির পণ্ডিত বা প্রতিভাবানদের নিয়ে প্রায় ২০০টি এসআইজি গ্রুপ রয়েছে, যাদের মধ্যে আবার বিনোদনের নানা শাখায় নিবেদিত আছেন অনেকেই । আন্তর্জাতিক সংগঠন মেনসার দ্বিতীয় শাখা আমেরিকান মেনসা। এখানে মেনসা এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (এমইআরএফ)’ মাধ্যমে পুরস্কার ও বৃত্তি দেওয়া হয়। মেনসা কর্মশালা ও বার্ষিক বিভিন্ন সম্মেলনের যেমন আয়োজন করে তেমনি  নিউজলেটার ও ম্যাগাজিন প্রকাশ করে থাকে।

সাংগঠনিক কাঠামো

নিজ দেশে জাতীয় পর্যায়ে থাকা যে কেউ মেনসার সদস্য হিসেবে জাতীয় দলে যোগ দিতে পারেন। তবে তাদের মধ্যে যদি কেউ কেউ দেশের মধ্যে প্রতিভার স্বীকৃতি না পান, তারা সরাসরি মেনসার আন্তর্জাতিক সংগঠনে যোগ  দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশে^র ১০০টি দেশে মেনসার প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার সদস্য রয়েছে, এ দলের সংখ্যা ৫৪টি। এদিকে আন্তর্জাতিক এ সংগঠনটির জাতীয় পর্যায়ের রয়েছে বৃহত্তর তিনটি দল। এর মধ্যে আমেরিকান মেনসা (সদস্য ৫৭ হাজার), ব্রিটিশ মেনসা (২১ হাজার) ও জার্মানি মেনসা (১৫ হাজার) উল্লেখযোগ্য। বৃহত্তর এই জাতীয় দলগুলো আবার একাধিক স্থানীয় দলে বিভক্ত। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমেরিকান মেনসার ১৩৪টি স্থানীয় দল রয়েছে। এর মধ্যে বৃহত্তর দলটির রয়েছে ২ হাজারেরও বেশি সদস্য এবং সবচেয়ে ছোট দলটির ১০০-এর কম।

ব্রিটেনের মেনসা

১৯৪৬ সালে প্রথমে ইংল্যান্ডে প্রতিষ্ঠিত হয় মেনসা। এর স্রষ্টা অস্ট্রেলিয়ার ব্যারিস্টার রোল্যান্ড বেরিল ও ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ল্যান্সলট ওয়ার। এই আইনজ্ঞ ও বিজ্ঞানী একসঙ্গে মিলে সবচেয়ে মেধাবীদের জন্য একটি সংগঠন গড়ার পরিকল্পনা করে বসেন, যার সদস্যরা হবেন উচ্চ বুদ্ধ্যঙ্ক-সম্পন্ন । ওই বছর বেরিল ও ওয়ার যৌথভাবে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডের লিঙ্কন কলেজে মেনসা প্রতিষ্ঠা করেন। তারা দুজনে মিলে সংগঠনটির জন্য ‘মেনসা’ নামটি বেছে নেন। কারণ লাতিন এই শব্দটির মানে ‘টেবিল’, যা একই সঙ্গে ‘মন’ ও ‘মাস’কেও স্মরণ করিয়ে দেয়। অর্থাৎ, তারা ভাবলেন, এটি এমন একটি টেবিল হবে যার চারপাশে মহান চিন্তার মানুষদের জন্য মাসে অন্তত একবার মিলনমেলার আয়োজন করা যাবে।

বেরিল ও ওয়ার স্পষ্টতই অরাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিয়ে মেনসা গঠন করেন। সেজন্য সব ধরনের সামাজিক ভেদাভেদ যেমন জাতি ও ধর্ম থেকেও মুক্ত রাখেন সংগঠনটিকে। শুরুর বাস্তবতা তাদের দুজনকেই হতাশ করে তোলে। বেরিল মেনসাকে শুধু ‘মেধাবীদের জন্য একটি অভিজাত’ সংগঠন হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সংগঠনটির অধিকাংশ সদস্যই কর্মজীবী ও নিম্নশ্রেণির পরিবার থেকে আসতে শুরু করে। এতে অসন্তুষ্ট হন বেরিল। এদিকে সংগঠনের বেশির ভাগ সদস্যই ধাঁধার মীমাংসা করে বেশির ভাগ সময় কাটাতে থাকেন, যা ওয়্যারকে ভীষণভাবে নিরাশ করে।

আমেরিকান মেনসা

১৯৫৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মেনসার একটি আন্তর্জাতিক শাখা খোলার প্রস্তুতি শুরু হয়। পরের বছর ১৯৬০ সালে সেখানে পিটার স্টার্জিওন প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠা করেন মেনসা। টেক্সাসের আর্লিংটনে ছিল তার দাপ্তরিক কার্যালয়। যুক্তরাষ্ট্রের বড় কয়েকটি শহর যেমননিউ ইয়র্ক, শিকাগো এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে এর বেশ কয়েকটি শাখা খোলা হয়। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকাজুড়ে অনেক আঞ্চলিক দলও গড়ে ওঠে। যারা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। কার্যক্রমটি বেশ সাড়াও ফেলে দেয়। এবার বিষয়গুলো দেখভালের জন্য একজন বেতনভুক্ত তত্ত্বাবধায়কের প্রয়োজন পড়ে। মেনসার মূল সংগঠন ব্রিটেনে একটি মডেল তৈরি করা হয়েছিল। যেখানে একজন গৃহিণী তার বাসাকে সংগঠনের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করেন এবং সেখান থেকেই মেনসার কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেন। যুক্তরাষ্ট্রে মেনসার এ রকম একজন পরিচালক চেয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। এতে সাড়া দেন মার্গট সিটেলম্যান। ১৯৬১ সালে মার্গটকে দেওয়া হয় মেনসার নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব। তিনি তার ব্রুকলিনের অ্যাপার্টমেন্টে ব্রিটেনের আদলেই শুরু করেন মেনসার কার্যক্রম। মেনসার বিভিন্ন দায়িত্বের সঙ্গে মার্গটের নাম জুড়ে ছিল। কখনো তিনি পরিচালক, কখনো নির্বাহী সচিব, তো কখনো আবার নির্বাহী পরিচালক। ১৯৬৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মেনসার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তবে এরপর কানাডার মেনসার সদস্যপদ পরিচালনার দায়িত্ব মার্গট। মার্গট দীর্ঘ ২৮ বছর যুক্তরাষ্ট্রে মেনসার দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তাই সংগঠনটির প্রাথমিক সাফল্য এবং দীর্ঘস্থায়ী সংগঠকের ভূমিকা মার্গটকে ‘মেনসার মা’ হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়।

ক্লান্তিকর প্রতিপালন

মেনসান শিশু প্রতিপালন বাবা-মায়ের কাছে অনেক সময় ক্লান্তিকর মনে হতে পারে। মেনসা শিশুদের পরামর্শদাতা লিন কেন্ডাল। এমন প্রতিভাধর শিশুদের প্রতিপালন সম্পর্কে লিন কেন্ডাল বলেছেন, ‘তিনি মেনসা শিশুদের বেলায় একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য লক্ষ করেছেন। আর সেটা হলো, যেকোনো বিষয়ই তাদের ভীষণভাবে আলোড়িত করে। তাদের মধ্যে শেখার ‘প্রবণতা বেশি।’ মেনসার এই প্রতিভাধর শিশুদের প্রতিপালন করার ক্ষেত্রে তাদের বাবা-মাকে সহায়তা করে থাকে একটি সহায়তা দল। লিন কেন্ডাল আরও বলেন, ‘মেনসা শিশুরা সারাক্ষণ নানা প্রশ্নবাণে বাবা-মাকে ব্যস্ত রাখে, যা এই বাবা-মার জন্য বেশ ক্লান্তিকর ও হতাশাজনক। আবার অনেক ক্ষেত্রে তাদের জন্য বাবা-মায়ের সংসার ভেঙে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়।’

এদিকে সাংবাদিক বার্লিনার বলেছেন, যেকোনো বাবা-মারই নিজের সন্তানকে প্রতিভাধর ভেবে আচরণ করা এড়ানো উচিত। ‘কারণ এমন শিশুদের বাবা-মা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করার মধ্যে এক ধরনের গৌরবের বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর পরিবর্তে তাদের এমন জীবনের প্রতি আগ্রহী করে তুলুন, যাতে তারা স্বচ্ছন্দ ও সুখী জীবনযাপন করতে পারে। এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’ এ রকম পরিস্থিতিতে থাকা অসংখ্য বাবা-মার বিষয়টি জানা যায় টেডির সর্বোচ্চ আইকিউ থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর।