একসময়ের ঢালিউডের পর্দা কাঁপানো চিত্রনায়িকা অপু বিশ^াসের হাতে এখন সিনেমার কাজ খুব একটা নেই। টুকটাক যা ব্যস্ততা তাও নিজের প্রযোজনায় সরকারি অনুদানের সিনেমা ‘লাল শাড়ি’ নিয়ে। তারকারা কাজের মাধ্যমেই ভক্তদের কাছে নিজের আগ্রহ ধরে রাখেন। আর আগ্রহ হারিয়ে গেলে বিপদ! ক্যারিয়ারই হুমকির মুখে পড়ে। সে কথা অজানা নয় অপু বিশ্বাসের। তাই তো কাজ না থাকলেও কীভাবে আলোচনায় থাকা যায় সেটি তিনি ভালোই জানেন। এজন্য প্রায়ই নানা ধরনের বিতর্কিত কাজ কারবার করে বসেন। নয়তো একজন প্রথম সারির নায়িকা হয়ে সমসাময়িক অন্য নায়িকাদের ক্যামেরার সামনে ভেংগাবেন কেন? তিনি যেন মাঝেমধ্যেই কমেডিয়ানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এতে করে দর্শক তাকে নিয়ে হয়তো দু-চার দিন কথাও বলে। কিন্তু বছরের পর বছর সিনেপর্দায় না থাকলে এসব কোনো কাজেই আসে না। তাই অপুকে আবার ব্যতিক্রমী পন্থা খুঁজতে হয়। এ ক্ষেত্রে তিনি বরাবরই বেছে নেন তার ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে জড়িত অন্য তারকাদের। যাতে মানুষের আগ্রহও প্রবল! এই যেমন সম্প্রতি বেসরকারি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন ‘লাল শাড়ি’ ছবির জুটি অপু বিশ্বাস ও সাইমন সাদিক। একপর্যায়ে দর্শকদের উদ্দেশে দুই অতিথিকে তিন লাইনের একটি চিঠি লেখার আহ্বান করেন উপস্থাপক। অপু বিশ্বাস সন্তান আব্রাম খান জয়ের উদ্দেশে তিন লাইনের চিঠি লেখেন। অনুষ্ঠানে সেটি পড়ে শোনান সাইমন। চিঠিতে অপু লেখেন, ‘জয়, তুমি বড় হও। তোমার সঙ্গে মায়ের আশীর্বাদ আছে। তুমি তোমার ভাইকে অনেক ভালোবাসবে।’ ভাই বলতে শাকিব খানের আরেক সন্তান বীরের নামটি এখানে উল্লেখ না করলেও সাইমন যখন অপুর কাছে জানতে চান, ‘ভাই মানে বীর, রাইট?’ অপু হাসতে হাসতে মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর এর নিচে মন্তব্যের ঘরে ভক্ত-অনুসারীদের বেশ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বছর ধরে কানাঘুষার পর গত বছর বুবলী শাকিবের আরেক সন্তান শেহজাদ খান বীরকে প্রকাশ্যে আনেন। বিষয়টি নিয়ে তখন হইচই পড়ে যায় মিডিয়ায়। বীরের প্রতি জয়কে উপদেশমূলক এই বার্তা প্রসঙ্গে অপু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পৃথিবীতে আমার কাছে সব সন্তানই পবিত্র। সব বাচ্চাই আমার স্নেহের। সন্তানের মানসিক বিকাশের জন্য পুথিগত বিদ্যার চেয়ে পারিবারিক শিক্ষা অতি জরুরি, দরকার। মানুষের সঙ্গে আচার-আচরণ কেমন হবে, আমি আমার বাচ্চাকে সেই শিক্ষা দিচ্ছি। তিন লাইনের বার্তায় সেটাই প্রকাশ করেছি আমি।’ কথার একপর্যায়ে বুবলীকে ইঙ্গিত করে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘উনি যা যা করছেন বা করেন, তা তো আমার সন্তান দেখছেন। আমার সন্তানের তো বোঝার বয়স হয়ে গেছে। এখন জয়ের বয়সীরা অনলাইনে লেখাপড়া করে। আমি নাম বলব না, একজন তো একটা ভিডিও ছেড়েছেন। জয়ও সেই ভিডিও দেখেছে। সুতরাং এসব ভিডিওতে তার ওপরও তো প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু আমি তো সেই কাজটি করব না। আমি আমার সন্তানকে সঠিক পথে একজন মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলব।’ এ যাত্রায় অপুর পরিশ্রম সফল হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানের চিঠির কারণে অপু বিশ্বাসকে ফেইসবুকে তার ভক্ত-অনুসারীরা বাহবা দিয়েছেন, প্রশংসা করেছেন। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই লিখেছেন, ‘অপু আসলে ভালো মনের মানুষ। দোয়া করি, আবার তাদের সংসারজীবন ঠিক হয়ে যাক।’ আরও লিখেছেন, ‘অপুর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা বেড়ে গেল। ভালো থাকবেন অপু বিশ্বাস।’ সমালোচনাও যে তা নয়। কেউ কেউ লিখেছেন, ‘নিজেকে মহান বানানোর অপচেষ্টা। যদিও এ ছাড়া আর উপায়ও নেই। কারণ, বাবা শাকিব খান দুই সন্তানকেই ভালোবাসেন।’