প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালন করতে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের’ সংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ছাত্রলীগের চালানো হামলায় সংগঠনটির ২২ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রলীগ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে টিএসসিতে এসেছিলেন। তারা আসার আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নেন ঢাবির বিভিন্ন হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ছাত্র অধিকারের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে টিএসসিতে এলে পাল্টা স্লোগান দিতে শুরু করেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। এভাবে ১০-১৫ মিনিট পাল্টাপাল্টি সেøাগান চলার পর ছাত্র অধিকার পরিষদের ওপর চড়াও হন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। প্রথমে টিএসসি গেটে এবং পরে ডাস চত্বর ও মিলন চত্বরে তাদের মারধর করা হয়। এরপর ছাত্র অধিকারের নেতারা ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। একপর্যায়ে অধিকারের নেতারা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাবি শাখার সভাপতি আসিফ মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা টিএসসিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে এলে তারা গেটেই আমাদের বাধা দেয়। বিদ্রুপ করে স্লোগান দিতে থাকে। আমরা চলে যেতে চাইলে আমাদের ওপর কয়েক ধাপে হামলা চালায়।’
ছাত্রলীগের কয়েক নেতা জানান, ছাত্র অধিকারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে টিএসসিতে নেতাকর্মীদের অবস্থান নেওয়ার নির্দেশনা দেয় ঢাবি ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে তাদের মারধরের কোনো নির্দেশনা ছিল না। ছাত্র অধিকার পরিষদ আগে হামলা চালানোয় তারাও তাদের মারধর করেন বলে ছাত্রলীগের নেতারা দাবি করেছেন।
ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বলেন, এ ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়িত নয়। আমি যতদূর খোঁজ পেয়েছি তাতে নুরুর গ্রুপ ও রেজা কিবরিয়ার গ্রুপ নিজেদের মধ্যে মারামারি করেছে। এখন তারা ছাত্রলীগের দোষ দিচ্ছে। এটা তাদের পুরনো অভ্যাস।